কাকদ্বীপকে নতুন জেলা করার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, সুন্দরবনের উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি

সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ মহকুমাকে ভেঙে আগামী দিনে একটি পৃথক ও নতুন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কাকদ্বীপ স্টেডিয়ামে সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তরের একটি সামাজিক প্রকল্প প্রদানের অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি। কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা এবং সাগর এই চারটি ব্লক নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটিকে সুন্দরবনের মানুষের সার্বিক সুবিধার জন্য সুন্দরবন মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন করে আগামী দিনে এই অঞ্চলকে পূর্ণাঙ্গ জেলার রূপ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠান থেকে আগের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পরিসংখ্যান পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ ৬০০ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ২০০ টাকার কাজ হয়েছিল এবং তার ৮০ শতাংশই দুর্নীতিগ্রস্তদের পকেটে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সুন্দরবনের উন্নয়নে আট মাসের বাজেটে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর প্রথম দফায় ৫৫৩টি কাজের সূচনা এবং দ্বিতীয় দফায় ২৬৫০টি নতুন কাজ করা হবে। পাশাপাশি, সুন্দরবনের বাঁধ মেরামতির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত মুড়িগঙ্গা সেতু উদ্বোধনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রসঙ্গেও কড়া নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রাণ ও ধর্ম বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা অনুপ্রবেশকারী নন, বরং তাঁরা শরণার্থী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং কাকদ্বীপের মহকুমা শাসককে অতি দ্রুত সমস্ত যোগ্য শরণার্থীকে সিএএ শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আগামী ১০ জানুয়ারি সাগরমেলা প্রস্তুতি পরিদর্শনের আগে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে, যাতে শংসাপত্র পাওয়ার পর তাঁরা ভোটার তালিকাতেও নাম তুলতে পারেন। পরিশেষে, ২০২১ সালের বিধানসভা পরবর্তী হিংসা এবং আমফান ও মনরেগার টাকা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
