বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

তারের জটেই কি বিপদ বাড়ছে নিউমার্কেটে ? প্রশ্ন একাধিক

20 August, 2026 5:41 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

সুনেত্রা সেনগুপ্ত : কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর ফের সামনে এসেছে শহরের অগ্নিনিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারি ঘিরে বড় প্রশ্ন। বুধবার ভোররাতে একটি পাঁচতলা ভবনে আগুনে বহু মানুষ আটকে পড়েন। অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হন। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের অভিযোগ, নিউমার্কেট ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ভবনের বাইরে এবং গলির মধ্যে যত্রতত্র বৈদ্যুতিক তারের জট দেখা যায়। কোথাও তার ঝুলছে, কোথাও একাধিক সংযোগ একসঙ্গে নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট হলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

তবে নির্দিষ্টভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কী ভাবে একের পর এক হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউস ব্যবসা করছে। মির্জা গালিব স্ট্রিটের যে ভবনে আগুন লাগে, সেখানে সংকীর্ণ সিঁড়ি, ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন ব্যবস্থার অভাবের অভিযোগ সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভবনটিতে একাধিক হোটেল চলছিল এবং উদ্ধারকাজে এই পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই ঘটনায় ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও হোটেল গুলির নিরাপত্তায় কোনও বাড়িতি ব্যবস্থা করা হয়নি বলেই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উল্লেখ্য,এমন ঘটনা অবশ্য কলকাতায় নতুন নয়। ২০২৫ সালে বড়বাজারের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তেও জরুরি বহির্গমন পথের অভাব, অকার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং বেআইনি নির্মাণের মতো বিষয় উঠে এসেছিল।নিউমার্কেটের ঘটনার পর রাজ্য সরকার হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউসগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা অডিটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল—অডিট কি শুধু দুর্ঘটনার পরেই হবে, নাকি নিয়মিতভাবে লাইসেন্স, বৈদ্যুতিক সংযোগ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং ভবনের ব্যবহার পরীক্ষা করা হবে। স্থানীয়দের এখন দাবি একটাই শুধু তদন্ত নয়, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কারণ শহরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় যত্রতত্র তারের জট, ঘিঞ্জি ভবন এবং অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি যদি একইসঙ্গে চলতে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে এই ধরণের বিপদ এড়ানো সম্ভব হবে না।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee