শিলংয়ে খাসি দুর্বৃত্তরা ভাঙল নেতাজির মূর্তি, ছাড় পেলেন না স্বামীজিও
নিজস্ব প্রতিবেদন : আবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অসম্মান করার ঘটনা ঘটল। এবার শিলংয়ে। সেখানে খাসি ছাত্রদের সংগঠন ( KSU) বুধবার বিকেলে একটি বাইক মিছিল বের করে। পুলিশের বাধার মুখে সেই আন্দোলন ক্রমেই সহিংস হয়ে ওঠে। সেই সময় মিছিল থেকে বেরিয়ে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত আর আর কলোনির সোসাইটির সামনে থাকা নেতাজির মূর্তিটি ভেঙে ফেলে। অভিযোগ, এরপর তারা উৎসবের মেজাজে মূর্তির ভাঙা মাথাটি নিয়ে খেলা করে। এতেও ক্ষান্ত হয়নি তারা। কলোনির আরেক প্রান্তে থাকা বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙারও চেষ্টা করে তারা। মূর্তি ঢেকে রাখা কাচের আবরণটি তারা ভেঙে ফেলে। সেই সঙ্গে উন্মত্ত ছাত্ররা কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
‘আমরা বাঙালি’র পক্ষ থেকে সাধন পুরকায়স্থ এই ঘটনার কথা জানিয়ে তীব্র নিন্দা করেছেন। সংগঠনের পক্ষে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, শিলংয়ের এই ঘটনা শুধু নেতাজিকে নয়, সমগ্র ভারতবাসী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে চরম অবমাননা করেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, উদ্বেগজনক বিষয় হল, একই কলোনির অন্য প্রান্তে থাকা স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিও ভাঙার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। স্বামী বিবেকানন্দ শুধু বাংলার নন, সমগ্র ভারতের এক বিশ্ববরেণ্য মনীষী। শিলঙের সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক সম্পর্কও অত্যন্ত গভীর। ২০২৬ সালে তাঁর শিলঙে আগমনের ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রামকৃষ্ণ মিশন সেখানে বিশেষ কর্মসূচিও পালন করেছে।
‘আমরা বাঙালি’র পক্ষ থেকে ক্ষোভের সঙ্গে জানানো হয়েছে, ছাত্রদের দাবি আদায়ের আন্দোলন থাকতেই পারে, কিন্তু তার সঙ্গে নেতাজি ও স্বামীজির মূর্তি ভাঙচুর করার সম্পর্ক কী? এসব মেনে নেওয়া যাবে না। আন্দোলনের নামে বাঙালির শ্রদ্ধার প্রতীক এবং ভারতের জাতীয় মনীষীদের অপমান করা চলবে না। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে মেঘালয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই আজ সকাল থেকে অসমের জোরাবাটে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেখানকার বাঙালিরা রাস্তা অবরোধও করেন। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে অন্যত্র।
