স্ত্রী ও বোনকে খুন করে যুবকের আত্মহত্যা ! হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে লিখে গেলেন খুনের কারণ
লখনউ : বৃহস্পতিবার লখনউয়ের ব্যস্ত রাস্তায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। ভরদুপুরে প্রকাশ্যে স্ত্রীকে গুলি করার পর বাড়ি ফিরে নিজের মানসিক ভারসাম্যহীন বোনকে গুলি করে হত্যা করেন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র এক কর্মী। এখানেই শেষ নয়, জোড়া খুনের পর বাড়িতে ‘হনুমান চালিসা’ চালিয়ে নিজের মুখে রিভলভার চালিয়ে আত্মঘাতী হন ওই ব্যক্তি। ঘটনার আগে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে খুনের দায় স্বীকার করে এবং স্ত্রীকে প্রতারক হিসেবে উল্লেখ করে একটি দীর্ঘ পোস্টও দেন তিনি। লখনউয়ের অভিজাত গোমতী নগর এলাকার এই নৃশংস ঘটনায় পুরো শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৩৮ বছর বয়সী ঘাতক যুবকের নাম মানস বাজপেয়ী। তিনি পেশায় এসবিআই-এর কর্মচারী ছিলেন। গত ১২ বছর আগে দিব্যা মিশ্রর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা আলাদা থাকছিলেন। এমনকি দম্পতির মধ্যে সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদের আইনি মামলাও চলছিল। দিব্যা মিশ্র গোমতী নগরের একটি নামজাদা আইসিআইসিআই (ICICI) ব্যাঙ্ক শাখায় কর্মরত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ঠিক বারোটা নাগাদ মানস বাজপেয়ী তাঁর স্ত্রীর অফিসে পৌঁছান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি ব্যাঙ্ক থেকে দিব্যাকে ডেকে বাইরে আনেন। মিনিট দুয়েক তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই হঠাৎ নিজের সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে দিব্যাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান মানস। রক্তে ভেসে যান দিব্যা। সহকর্মীরা উদ্ধার করে দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্ত্রীকে প্রকাশ্যে গুলি করার পর প্রচণ্ড ঘর্মাক্ত ও উদভ্রান্ত অবস্থায় দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন মানস। বাড়ির পাশের এক দোকানদার জানান, মানসকে চরম তাড়াহুড়ো করে ঘরের ভেতর ঢুকতে দেখা যায়। ঘরে ঢুকেই তিনি জোরে জোরে স্পিকারে ‘হনুমান চালিসা’ বাজাতে শুরু করেন।
ঘরের ভেতরে তখন উপস্থিত ছিলেন তাঁর ২৮ বছরের বোন শিবা বাজপেয়ী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্ত্রীর পর নির্দ্বিধায় নিজের বোনকেও গুলি করে হত্যা করেন মানস। এরপর একই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নিজের জীবনেরও অন্ত ঘটান তিনি।
আত্মহত্যার ঠিক আগেই নিজের ফোনে একটি ভয়ানক হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস পোস্ট করেন মানস। সেখানে তিনি লেখেন, “আজ আমি আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছি, যে আমাকে প্রতারণা করেছিল। এবার আমাকে নিজেকে, আমার বোনকে এবং ওর বোন প্রজ্ঞাসহ সবকিছু শেষ করতে হবে।”
মানসের এই স্ট্যাটাস দেখে প্রতিবেশীদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। তাঁরা তড়িঘড়ি বাড়িতে ঢুকে ঘরের মধ্যে মানস ও তাঁর বোনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
অন্যদিকে, বোন আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে ট্যাগ করে সাহায্য চান নিহত দিব্যার বোন প্রজ্ঞা মিশ্র। তিনি লেখেন, “আমি মাত্র খবর পেলাম যে আমার বোনকে গুলি করা হয়েছে। ওকে লোহিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দয়া করে সবাই প্রার্থনা করুন।” উল্লেখ্য, মানস তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে প্রজ্ঞাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন।
খবরের পাওয়ার পরই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি দেহই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিবাদ, বিবাহবিচ্ছেদের মানসিক চাপ এবং পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই এই ভয়ঙ্কর জোড়া খুন ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এক লহমায় একটি গোটা পরিবার শেষ হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—সর্বত্রই চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
