পুনর্জন্মের কি কোনও নির্দিষ্ট পথে হয়? কাদের সঙ্গে ঘটে আশ্চর্য, খুঁজে পেলেন গবেষকরা

নয়াদিল্লি: আকস্মিক বা অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পর পুনর্জন্মের দাবির ক্ষেত্রে মৃত্যু ও ‘নতুন জন্মের’ মধ্যবর্তী সময় তুলনামূলক কম হয়। এমনই এক অস্বাভাবিক প্রবণতা খুঁজে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ার গবেষকরা। গবেষণায় ১,৬৭৮টি পুনর্জন্মের দাবি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আরও চমকপ্রদ বিষয় হল, যে পরিবারগুলি পুনর্জন্মে বিশ্বাসই করে না, সেখানে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। গবেষণাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া স্কুল অফ মেডিসিনের ‘ডিভিশন অফ পারসেপচুয়াল স্টাডিজ’-এর বিজ্ঞানীরা। মানুষের চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এই বিভাগ কয়েক দশক ধরে কাজ করছে।
বহু দশক ধরে সংগৃহীত ১,৬৭৮টি ঘটনা খতিয়ে দেখেন গবেষকরা। এর বেশিরভাগই শিশু, যারা দাবি করেছে যে তাদের কোনও মৃত ব্যক্তির জীবনের স্মৃতি মনে আছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন একজন মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছিল, যাঁর জীবনের সঙ্গে শিশুটির বলা স্মৃতি মিলে যায়। মৃত্যুর সময় বয়স কত ছিল, মৃত্যু স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক, এবং তা প্রত্যাশিত ছিল কি না, এই বিষয়গুলি বিবেচনা করা হয়েছে। অসুস্থতা বা বার্ধক্যজনিত মৃত্যুকে স্বাভাবিক, আর দুর্ঘটনা, হিংসা ও আত্মহত্যাকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর তালিকায় রাখা হয়েছে।
গবেষকরা দেখেছেন, মৃত্যু ও দাবি করা পুনর্জন্মের মধ্যবর্তী সময়ের গড় মধ্যমান ছিল ১৬ মাস। কিন্তু সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে এই ব্যবধান গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে।গবেষণার শুরুতে দলটি আগের একটি রিপোর্ট যাচাই করতে চেয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল হিংসাত্মক মৃত্যুর সঙ্গে কম সময়ের ব্যবধানের সম্পর্ক থাকতে পারে। মুখ্য গবেষক সাইদেহ সাদেঘি বলেন, “আগের একটি প্রকাশিত রিপোর্টে হিংসাত্মক মৃত্যু ও মৃত্যু-জন্মের মধ্যবর্তী কম সময়ের সম্পর্কের কথা বলা হয়েছিল। আমরা সেই সম্পর্ককে আরও পদ্ধতিগতভাবে যাচাই করতে চেয়েছিলাম এবং দেখতে চেয়েছিলাম সাংস্কৃতিক বা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবে তার ব্যাখ্যা মেলে কি না। অবাক করে দিয়ে, অনেক বেশি সংখ্যক ঘটনা পরীক্ষা করার পরও সম্পর্কটা রয়ে গেল, আর আমরা যে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলি দেখেছি, সেগুলি দিয়ে এর ব্যাখ্যা মিলল না।”
গবেষকরা এটাও খতিয়ে দেখেছেন যে শিশুরা কি আত্মীয়দের কাছ থেকে শোনা গল্প আবার বলছে, কিংবা যেসব সম্প্রদায়ে পুনর্জন্ম ব্যাপকভাবে স্বীকৃত, সেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবারগুলির ব্যাখ্যাকে প্রভাবিত করছে কি না। তা সত্ত্বেও অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ও কম ব্যবধানের সম্পর্ক অটুট থেকেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর হল, যে পরিবারগুলির ধর্ম পুনর্জন্মকে সমর্থন করে না, সেখানে এই প্রবণতা আরও শক্তিশালী। গবেষক ফিলিপ কোজোলিনো বলেন, “বেশ কিছু সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয় বিবেচনা করার পরও প্রভাবটা থেকে গিয়েছে, এবং যে পরিবারগুলির ধর্ম পুনর্জন্ম সমর্থন করে না, সেখানে এটা আসলে আরও জোরালো। এই ফলাফল বলছে না যে সামাজিক বিশ্বাসই এই প্রবণতার চালিকাশক্তি।”
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এই ফলাফল পুনর্জন্মের অস্তিত্ব প্রমাণ করে না, কিংবা আগের জন্মের স্মৃতি যে সত্যি, তাও প্রতিষ্ঠিত করে না। তাঁদের মতে, এটি কেবল গবেষণাধীন ঘটনাগুলির মধ্যে একটি ব্যাখ্যাহীন পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক তুলে ধরেছে। সাদেঘি বলেন, “পূর্বজন্মের স্মৃতির সময়গত প্রবণতা নিয়ে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পদ্ধতিগত গবেষণা। এককভাবে কোনও ঘটনার একাধিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে, কিন্তু অনেক ঘটনা জুড়ে একটি প্যাটার্ন থাকলে তাকে অতিরঞ্জন, কল্পনা বা বানানো গল্প বলে ব্যাখ্যা করা অনেক কঠিন।”
গবেষক মারিয়েটা পেহলিভানোভা বলেন, “আমরা আশা করি এই কাজ গবেষকদের একক ঘটনার বাইরে তাকাতে উৎসাহ দেবে এবং দেখতে বলবে, বৃহত্তর কোনও প্যাটার্ন আছে কি না যা পদ্ধতিগতভাবে পরীক্ষা করা যায়। এর পিছনের প্রক্রিয়া এখনও অস্পষ্ট, আর সেই কারণেই আরও খোঁজ চালিয়ে যাওয়ার যুক্তি আরও জোরালো, চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার নয়।” গবেষণাটি আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নাল ‘সাইকোলজি অফ কনশাসনেস: থিয়োরি, রিসার্চ অ্যান্ড প্র্যাকটিস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
