“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আল্টিমেট তৃণমূল”: ঋতব্রতর শিবিরে থেকেও ফের বিস্ফোরক মদন মিত্র

সংবাদদাতা, কলকাতা: ফের বিস্ফোরক মন্তব্য় মদন মিত্রের। একাদশীর দিনই আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ধর্ম-কর্ম করা গেলেও হয়তো আর রাজনীতি করা যাবে না। তিনবারের বিধায়ক হয়েও নিজের কেন্দ্র কামারহাটিতে যেতে পারছেন না বলেও জানিয়েছিলেন। শুক্রবার তাঁর গলায় শোনা গেল আরও তীব্র সুর। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লেখালেও তিনি বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন আল্টিমেট তৃণমূল।” তবে কি এক সময়ের ছায়াসঙ্গীর দিকেই ফের ফিরতে চাইছেন মদন, উঠছে সেই প্রশ্ন।
এদিন বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনে বৈঠকে বসে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। বৈঠকে যোগ দিতে আসেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শান্তনু সেন, অরূপ রায়, মদন মিত্র-সহ একাধিক নেতা। বৈঠকে ঢোকার আগেই সংবাদমাধ্যমের সামনে মদন জানান, তাঁর কাছে নেত্রী বলতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। কামারহাটির বিধায়কের কথায়, “ভোট কন্ট্রোল যারা করে আর টিয়া পাখি নিয়ে যারা বসে, তাদের সঙ্গে আমি নেই। মেট্রোপলিটন তৃণমূল ভবনে এসেছি। দুই জায়গাতেই আবার অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা। তবে তলায় কী ব্রত, পরমব্রত না অনুব্রত, তা লেখা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ খুব বুদ্ধিমান। মানুষ জানে, ডাবল ইঞ্জিনের পরে ট্রিপল ইঞ্জিন না হলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। কিছু লড়াই বোর্ড গড়তে, আর কিছু লড়াই রিংয়ে আছি বোঝাতে লড়তে হয়।” মমতার উদ্দেশে মদনের আক্ষেপ, বাকি বন্ধুদের ডাকলেও তিনি একবারও বলতে পারতেন, “আসুন, আমরা একসঙ্গে লড়ি।” মদনের কথায়, “তারপর না হয় ভাবতাম। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন আল্টিমেট তৃণমূল। সিরিয়াসলি রিংয়ে নামলে সিরিয়াসলি লড়ব।”
Kolkata, West Bengal: On the speculation about his retirement from politics, Democratic AITC MLA Madan Mitra says, “The current circumstances do not allow for politics; the prevailing environment is not conducive to it. If you attempt to engage in politics for the sake of the public, you will either be killed or arrested. You cannot participate in politics unless you align yourself with goons. In June, I was attacked with the intent to kill me. Despite this, those individuals are still roaming freely, brazenly flaunting their power…”
— IANS (@ians_india) October 23, 2026
মমতাকেই তৃণমূলের সমার্থক বলে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কংগ্রেসের উদাহরণ টানেন তিনি। মদন বলেন, “কংগ্রেসের নেতা গান্ধী, নেহরু। আজ ঘটনাচক্রে অনেকে আসছেন। তেমনই তৃণমূল কংগ্রেস আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমার্থক। প্রতীক যে-ই পাক না কেন…”। প্রতীক প্রসঙ্গে মদনের বক্তব্য, “উনি সিম্বল ছাড়াই আল্টিমেট তৃণমূল। সিম্বল পাওয়ার পর কমিশন যদি আমাদের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে সিম্বল-কম্বল সব এক হয়ে যাবে। আমি আশা করেছিলাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবার বলবেন, আসুন না, আমরা সবাই একসঙ্গে লড়ি, পুরনো স্মৃতি ভুলে যাই। দায়িত্বটা কার? দায়িত্বটা আমাদের নয়। ছোট চায়, কিন্তু বড় সবসময় ছোটর দাবি দাবিয়ে রাখে। আমরা সঙ্গে আছি, কিন্তু ব্যানারের মুখে নেই। ইন্ডি জোটও আমাদের ডাকেনি, ডেকেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।” শেষে কলকাতা পুরসভা নিয়ে সতর্কবার্তা দেন মদন। তাঁর কথায়, “একসঙ্গে সবাই লড়লে কলকাতা পুরসভায় বিজেপি পরাস্ত হবে। না হলে সবাই আলাদা দাঁড়িয়ে ভোট ভাগ করে বিজেপির সঙ্গে সেটিং বুঝিয়ে দেব।”
