দুর্গাপুজোয় সারা রাজ্যে এক কোটি টাকারও বেশি বই বিক্রি হয়েছে, দাবি সিপিএমের

সংবাদদাতা, কলকাতা: পুজো শুরুর ক’দিন আগে থেকে শুরু করে পুজোর দিনগুলোতেও একাধিক জায়গায় সিপিএমের বুকস্টল ভাঙার অভিযোগ ওঠে। যাদবপুরে বুক স্টল বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু তারপরও রাজ্য জুড়ে তৈরি হওয়া সিপিএমের বুক স্টল থেকে প্রায় কোটি টাকার বই বিক্রি করা হয়েছে বলে জানায় সিপিএম নেতৃত্ব। একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে জানানো হয় সমস্ত বাম সংগঠনের স্টল মিলে প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি বই বিক্রি করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সিপিএমের দাবি, বুলডোজার ঠেকানোয় এবার বই বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণ। মানুষ যথাযোগ্য জবাব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, হাওড়ার এক সিপিএম নেতা দাবি করেছেন, পুজোয় হাওড়া জেলায় বামেদের বুক স্টল থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বেশি বই বিক্রি হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৯টি বইয়ের স্টল হয়েছিল। ৪,৭৪,৬৪১ টাকার বই বিক্রি হয়েছে, যা গতবারের চাইতে প্রায় ১ লক্ষ টাকা বেশি দাবি স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের। শান্তিপুরের ফুলিয়ায় সিপিএম স্টল ভাঙার পর এ বছরে বই বিক্রি হয়েছে ১৮ হাজার ৯৭২ টাকার। গত বছর বই বিক্রি হয়েছিল ৯ হাজার ৪৪৭ টাকার। উত্তরবঙ্গেও এই বছর রেকর্ড বই বিক্রি হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের ৭টি স্টলে ৭৭ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে। শিলিগুড়িতে রেকর্ড বই বিক্রি হয়েছে ষষ্ঠী থেকে সপ্তমী পর্যন্ত। গতবার ১৫ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার তা বেড়ে ৬৮ হাজার। এছাড়া মহকুমা জুড়ে থাকা বাকি ১৯টি বুক স্টলেও বিক্রি বেড়েছে বলে দাবি সিপিএম নেতৃত্বের। তবে উত্তরবঙ্গের সমস্ত স্টলের হিসেব এখনও সম্পূর্ণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য সব বিক্রিকে এবার ছাড়িয়ে গেছে যাদবপুর। এই বছর সেখানে প্রায় ১৪ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে দাবি বামেদের।
এই বিষয়ে সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত জানান, এটা শুধু টাকার অঙ্কের ব্যাপার নয়। কারা বই বিক্রি করছেন বনাম কারা আদর্শ বিক্রি করছেন, তার লড়াই দেখছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।
কলতানের সংযোজন, এই বিষয়টা টাকার অঙ্ক দিয়ে বিচার হবে না। এবছর বহু মানুষ আমাদের বুক স্টলের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছেন। যেখানে হামলা হয়েছে, তার উল্টোদিকের বাড়ির লোক বলেছেন, আমার একতলার ঘর ফাঁকা রয়েছে, এখানে বুক স্টল করুন। এই নতুন বন্ধু জুড়তে পেরেছি, এটাই আমাদের প্রাপ্তি।
বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী অবশ্য বলেন, বুলডোজার দিয়ে বইয়ের ওপর আঘাত, কোনওভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু ওদেরও এটা বুঝতে হবে, দেশবিরোধী স্লোগান, হিন্দুধর্মবিরোধী কথাবার্তা কোথাও মানুষকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। কিন্তু এটাও বারবার বলছি বইয়ের ওপর আক্রমণ মেনে নেওয়া যায়নি। বইয়ের ওপর যে আঘাত মেনে নেওয়া যায় না, সেকথা আগেই বলেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর মতে, বামেদের বই স্টলগুলোতে যে হামলা হচ্ছে, তা অন্যায়। তিনি বলেছিলেন, কে অথরিটি দিয়েছে। বামেদের সঙ্গে আমার একটা নৈতিক বিবাদ রয়েছে। তার জন্য বই বিক্রিতে বাধা, বই ডিসপ্লে করতে দেব না, এটা হতে পারে না। কারা করছে জানি না। তারা কারা, আমি কোনও বিতর্কের মধ্যে যাচ্ছি না। আমি বললাম, এটা নিন্দনীয়, এটা যেন আর কোনওদিন না হয়।
পুজোয় বুক স্টল বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বলেছিলেন, বইয়ের সঙ্গে সিপিএমের রাজনীতি গোলানো হচ্ছে, আমরা বইপ্রেমী। বইবিরোধী নই। পুষ্পাঞ্জলি দেবেন না, অষ্টমীর অঞ্জলি দেবেন না, সিঁদুর খেলবেন না। আপনারা সনাতনী হিন্দুত্বের বিরোধিতা করবেন, তারপর দুর্গাপুজোর সামনে গিয়ে স্টল দেবেন। কর্পোরেশন বা সরকার যা করেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে করেছে। আমি বলব কাউকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার দরকার নেই।
তবে নানা বিতর্কের মধ্যেও মানুষের সমর্থনে কোটি টাকার বইবিক্রিতে নতুন করে অক্সিজেন পাচ্ছে বাম সংগঠনগুলি।
