আবারও ঘুর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি! ভাসতে চলেছে বাংলা?

সংবাদদাতা, কলকাতা: ফের ঘূর্ণিঝড়! এবার অর্ণবের আছড়ে পড়ার আশঙ্কা ওড়িশায়। যার প্রভাব পড়বে এ রাজ্যেও। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণাবর্তটির নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। থাইল্যান্ড উপকূল থেকে ইতিমধ্যেই সেই ঘূর্ণাবর্তটি এসে পৌঁছেছে আন্দামান সাগর অঞ্চলে। সবকিছু অনকূলে থাকলে শুক্র থেকে শনিবারের মধ্যেই সেটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে যাবে। আন্দামান সাগর থেকে পশ্চিম ও উত্তর–পশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ–পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে গিয়ে তার নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এরপর এই নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হবে এবং এগিয়ে যাবে পশ্চিম ও উত্তর–পশ্চিম দিকে। আমেরিকার মডেল জিএফএস অনুযায়ী, এই ঘুর্ণাবর্তটি বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে অক্টোবরের শেষ নাগাদ। আজ ২৩ অক্টোবর এটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর আরও শক্তিশালী হয়ে এটি ২৫ অক্টোবর উত্তর–পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এই গতিগথ অনুসরণ করলে ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা থাকবে ওড়িশাতে। হিসেব মতো ২৭ অক্টোবর গভীর রাতে ভুবনেশ্বরের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগে ঢুকতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরই অক্টোবর এবং নভেম্বর— এই ২ মাস বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিবেশ থাকে।
কেন ঝড়ের নাম ‘অর্ণব’?
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৩টি দেশের যথাক্রমে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও ইরানের দেওয়া নামের একটি ক্রম তালিকা থেকে ক্রমানুসারে নামকরণ করা হয় ঘূর্ণিঝড়ের। যখন কোনও নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘুর্ণিঝড়ের রূপ নেয়, তখন এই তালিকা থেকে নাম নিয়ে ঝড়টির নামকরণ করা হয়। এই তালিকা অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। এই ঝড়ের নামকরণ করেছে বাংলাদেশ। যার অর্থ ‘সমুদ্র’ বা ‘সাগর’।
