দশমীর রাতে রাজারহাটে সিপিএম ও কংগ্রেস কার্যালয়ে তাণ্ডব

সংবাদদাতা,রাজারহাট: দুর্গাপুজো মিটতেই রাজারহাটে সিপিএম এবং কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। বুধবার রাতে রাজারহাটের বিষ্ণুপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বসিনা মণ্ডলপাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাম ও কংগ্রেস শিবির। তবে রাজারহাট নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোড়িয়া এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
স্থানীয় সিপিএম নেতা সপ্তর্ষি দেবের অভিযোগ, বুধবার রাতের অন্ধকারে তাঁদের পুরনো পার্টি অফিসে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। চেয়ার থেকে শুরু করে সিলিং ফ্যান সবকিছুই ভাঙচুর করা হয়েছে। এর আগে উৎসবের আবহেও বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই সপ্তর্ষি জানান, তৃণমূলের ঐতিহ্য বহনকারী বিজেপি ছাড়া এই কাজ আর কারও পক্ষে করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, সিপিএমের কার্যালয়ের পর স্থানীয় কংগ্রেসের দলীয় অফিসেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা আব্দুল মোহিত দাবি করেছেন, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে যে একাধিক ব্যক্তি বাইকে করে এসে তাঁদের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে। ঘটনার পেছনে বিজেপির চক্রান্ত রয়েছে দাবি করে ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে এই সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোড়িয়া দাবি করেছেন, বাম ও কংগ্রেসের বর্তমানে কোনও অস্তিত্ব নেই। শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের নজরে আসতেই তারা নিজেরাই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, যদি প্রমাণ করা যায় যে কোনও বিজেপি নেতা বা কর্মী এই ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত, তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। পাশাপাশি, দাবি করেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তন এনেছে এবং এখন রাজ্য মার্কসের আদর্শে নয়, বরং স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে চলবে।
