‘জতুগৃহ’ নিউমার্কেট, মমতার সরকারকে কটাক্ষ শুভেন্দুর
নিজস্ব প্রতিবেদন : বুধবার ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনে অবস্থিত একাধিক হোটেলে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। ওই হোটেলগুলিতে মূলত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীরা ও তাঁদের আত্মীয়রা আবাসিক হিসেবে থাকছিলেন।ভোররাতের দিকে আগুন লাগায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা আবাসিকদের অনেকেই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশের নাগরিক এবং একজন ভারতীয়।মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। তাঁরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঘটনার পেছনের কারণ, কোথায় কার গাফিলতি ছিল এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ সিট গঠন করা হয়েছে। এই ঘটনার উপর সরাসরি নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষুব্ধ শুভেন্দু সমাজ মাধ্যমে জানিয়েছেন বিগত কয়েক বছরের বেশ করেকটি বড় বড় অগ্নিকাণ্ড, বহু প্রাণহানির পরেও টনক নড়েনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের। সেই সময়ের ঢিলেঢালা অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার খেসারত দিতে হল ৯ জনকে।
নিউমার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মমতা সরকারকে দুষে এমনই দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা বছরের পর বছরের উদাসীনতার ফল। বহু বছর ধরে রাজ্য সরকার পরিকাঠামোর দিকে কোনও নজর দেয়নি। একের পর এক হোটেল, ব্যবসায় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া হয়নি। ফায়ার অডিটের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এখন সেই সমস্ত গলদ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
মৃতদের পরিবারের প্রতি শোকজ্ঞাপনও করেন তিনি। এই ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দেন। নিহতের পরিবারের লোকজন সুবিচার পাবেন বলে আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল ডিজি ফায়ারের কাছে রিপোর্ট তলব করেন। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা সঠিকভাবে ছিল কিনা? হোটেল সম্পর্কিত অন্যান্য অনুমতিপত্র ছিল
কিনা ? এই ধরনের একাধিক প্রশ্ন সম্বলিত রিপোর্ট মুখ্যসচিব চেয়েছেন বলেই নবান্ন সূত্রে খবর।
