কলকাতার নিউ মার্কেটে আগুনে মৃত্যু বাংলাদেশের সাংবাদিকের !
নিজস্ব প্রতিবেদন : কলকাতার নিউমার্কেটের হোটেলে মঙ্গলবার গভীর রাতের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল বাংলাদেশের এক সাংবাদিকের। পুলিশ সূত্রের জানা যায় তাঁর নাম দেবাশিস দত্ত। তিনি বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার বাসিন্দা। সেখানেই ‘আজকের আলো’ পত্রিকার সাংবাদিক হিসাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
দেবাশিসের সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে তাঁর শ্বশুর, স্ত্রী এবং তিন বছরের ছেলেরও। বাংলাদেশ হাইকমিশনের তরফে সে দেশে দেবাশিসের পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, স্ত্রীয়ের চিকিৎসার কারণে সপরিবার ভারতে এসেছিলেন দেবাশিস। বেঙ্গালুরুতে ১৩ দিন চিকিৎসার জন্য ছিলেন তাঁরা।
মঙ্গলবারই তাঁরা বিমানে বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় পৌঁছান। এর পরে উঠেছিলেন মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময়ে তাঁরা কেউই বেরিয়ে আসতে পারেননি। দেবাশিসের স্ত্রী মনীষা, শ্বশুর আক্রাম হোসেন এবং তিন বছরের সন্তানের মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।। বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসার পর কলকাতায় আসেন তাঁরা। একরাতে থাকার জন্য উঠেছিলেন ‘শিখা ইন’-এ।
মধ্যরাতে আচমকা আগুন লাগে নিউমার্কেটের ওই হোটেলে। মুহূর্তে ধোঁয়ায় ভরে যায় ঘরগুলি। বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দেবাশিস দত্ত, স্ত্রী আফসানা সিমমিন, ৩ বছরের ছেলে স্বর্ণাশিস দত্ত ও শ্বশুর আক্রম আলির। দেবাশিস দত্তের বাবা দিলীপ দত্ত বাংলাদেশের এক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, দেবাশিসের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ফাহিমাকে (৮) রেখে ৩ আগস্ট তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান।
দুই দিন পর তাঁর শ্বশুরও কলকাতায় যান। প্রথমে তাঁরা কলকাতায় দুই দিন ছিলেন। এরপর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যান। গত সোমবার রাত এগারোটায় বিমানে করে কলকাতায় আসেন তাঁরা। সেখানে হোটেলে উঠেছিলেন। আজ সকালে দিলীপ দত্ত জানতে পারেন যে অগ্নিকাণ্ডে তাঁরা সবাই মারা গেছেন। দেবাশিসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আজ সকাল থেকে তাঁর বাড়িতে বন্ধু, সাংবাদিক ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন। ছেলেকে হারিয়ে মা স্বপ্না দত্ত দিশাহারা। তিনি বলতে থাকেন, ‘আমার দেবা (দেবাশিস) একটু পরই বাড়িতে আসবে। এত দেরি করছে কেন? রাতে বলেছিল, ব্যাগ গোছাচ্ছে। সকালেই রওনা দেবে বাড়ির উদ্দেশে।’
পাশাপাশি এদিন মৃত্যু হয়েছে ঢাকার বাসিন্দা আহমেদ বাবুরও সহ বেশ কিছু জনের। চারজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
