বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

মহাষ্টমীর সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে অঞ্জলির ভিড়, কুমারী পুজো দেখতে ঢল দর্শনার্থীদের

19 October, 2026 1:07 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: আজ মহাষ্টমী শেষ হয়ে শুরু হয়ে গেল মহানবমী।মহাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে দেবী আরাধনায় মাতোয়ারা রাজ্যবাসী। তিথি মেনে খুব ভোরেই বিভিন্ন মণ্ডপে হয়েছে অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি। অনেক জায়গায় আয়োজন করা হয়েছে কুমারী পুজোরও। আজ মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে হল সন্ধিপুজো। বেলু়ড় মঠে মহাষ্টমী মানেই কুমারী পুজো। কুমারীদের রীতি মেনে পুজো করা হয় এদিন।  সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দেওয়া ও অঞ্জলি নিবেদন করতে ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ে। মহাষ্টমীতে ব্যারাকপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ৫০ কুমারীর পুজো উপলক্ষে জমজমাট আয়োজন। আদ্যাপীঠেও এদিন ভক্তদের ঢল চোখে পড়ার মতো। এবার ১২৫ বছরের পুজো বেলুড় মঠে। মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো।

May be an image of temple

কালিকাপুরাণে বলা হয়েছে: ‘আশ্বিনস্য তু শুক্লস্য ভবেদ্ যা অষ্টমী তিথিঃ। মহাষ্টমীতি সা প্রোক্তা দেব্যাঃ প্রীতিকরী পরা।।’ এর অর্থ, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি দেবীর অত্যন্ত প্রীতিকর, তাই এটি মহাষ্টমী নামে খ্যাত। প্রথা মেনে বেলুড় মঠ, বনেদি বাড়ি ও বারোয়ারি মণ্ডপে আজ অনুষ্ঠিত হল সন্ধিপুজো। এই পুজোয় দেবীর আরাধনা হয় চামুণ্ডা রূপে। প্রতিমার উদ্দেশে নিবেদন করা হয় ১০৮টি পদ্ম ও ১০৮টি প্রদীপ।

গঙ্গার বুকে সকালের আলো। বেলুড় মঠ চত্বরে মহাষ্টমীর সকালে উপচে পড়া ভিড়। আর মণ্ডপজুড়ে চলল মন্ত্রোচ্চারণ । মহাষ্টমীর সকালে বেলুড় মঠে যেন অন্য আবহ এনে দেয় বছরের পর বছর ধরে। এ বছর ঐতিহাসিক ১২৫ বছরে পদার্পণ করেছে মঠের দুর্গাপুজো । ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দের উদ্যোগে যে পুজোর সূচনা, সময়ের সঙ্গে তা হয়ে উঠেছে বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম পরিচিত অধ্যায় । মহাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে সেই ঐতিহ্য ঘিরেই সকাল থেকে ভক্তদের ঢল নামে বেলুড় মঠে । পুজোর অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পুজো, যেখানে প্রতিবারের মতো এবারও বালিকাকে দেবীজ্ঞানে আরাধনা করা হল । আচার, বিশ্বাস ও মানবধর্মের এই মেলবন্ধনেই আলাদা পরিচিতি পেয়েছে বেলুড় মঠের দুর্গোৎসব ।

May be an image of temple

মহাষ্টমীর তাৎপর্য

মহাবিপদ থেকে ত্রাণ: স্মার্ত পণ্ডিত রঘুনন্দনের মতে, “মহাবিপত্তারকত্বাদ্ গীয়তেহসৌ মহাষ্টমী”। অর্থাৎ দেবী দুর্গার আবির্ভাবে ত্রিলোকের মহাবিপদ দূর হয়েছিল বলেই এই তিথির নাম মহাষ্টমী।

অসুরদলন ও শক্তির প্রকাশ: পুরাণ মতে, এই দিনেই দেবী চামুণ্ডা রূপে আবির্ভূত হয়ে চণ্ড, মুণ্ড ও রক্তবীজ অসুরকে বধ করেছিলেন। তাই অশুভের ওপর শুভশক্তির জয়ের প্রতীক হিসেবে দিনটি বিশেষ মর্যাদা পায়।

সন্ধিপুজো: মহাষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও মহানবমীর প্রথম ২৪ মিনিট, মোট ৪৮ মিনিটের এই সন্ধিক্ষণেই হয় বহু প্রতীক্ষিত সন্ধিপুজো। দুর্গোৎসবের শ্রেষ্ঠ পুণ্যলগ্ন বলে মানা হয় এই সময়কে। এ দিন দেবীর ত্রিশূল, খড়্গ, চক্র-সহ নানা অস্ত্রের পুজোও (বীর অষ্টমী ব্রত) করা হয়, যা নারীশক্তির শৌর্য ও সুরক্ষার প্রতীক। ১০৮টি প্রদীপ ও ১০৮টি পদ্ম নিবেদনের মাধ্যমে ৪৮ মিনিটের এই পুজো সম্পন্ন হলে অষ্টমী শেষ হয়ে শুরু হয় মহাপুজোর শেষ তিথি নবমী।

প্রতিবেদন

UTSAB RC