কেন এত অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু? কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র?
জ্যোতিষাচার্য উৎপলকুমার দাস
বেশ কিছুদিন ধরেই একটানা দুর্ঘটনা, রক্তপাত, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে চলেছে রাজ্য ও দেশজুড়ে। চলেছে মৃত্যুমিছিল। জ্যোতিষশাস্ত্র বলে, যে কোনও দুর্ঘটনা, রক্তপাত বা অগ্নিকাণ্ডের মত ঘটনার পেছনে থাকে মঙ্গলের কারকতা। গ্রহ, নক্ষত্ররা প্রতিদিনই তাদের অবস্থান সামান্য হলেও পরিবর্তন করে। হঠাৎ কোনও দুর্ঘটনা, যা আগে থেকে জানতে পারা যায় না তা কিন্তু মঙ্গলই ঘটায়। দুদিন আগেই তারাপীঠের একটি হোটেলে আচমকাই আগুন লেগে কয়েকজন মানুষ অসহায়ভাবে মারা গেলেন। আবার মঙ্গলবার মাঝরাতে নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইন’ রেস্তোরাঁয় আগুন লেগে মারা গেলেন কয়েকজন। শিশু ও মহিলাসহ ৯ জন ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা গেলেন। রাশিচক্র বিচার করে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে রাহুর নক্ষত্রে বসে রয়েছে মঙ্গল। আবার রাহুও বসে রয়েছে মঙ্গলের নক্ষত্রে। সুতরাং রাহু ও মঙ্গলের এই অশুভ আঁতাত হঠাৎ করেই অগ্নিকাণ্ড এবং প্রাণহানি ডেকে আনছে। রাহু সবসময়ই হঠাৎ করে কোনও বিপদজনক ঘটনা ঘটায়। রাহু যদিও ছায়াগ্রহ, তবুও তার প্রভাব বেশ ভালরকমই থাকে। এখন রাহু কুম্ভরাশিতে যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থায় আছে। তাই যে কোনও দুর্ঘটনার মত অশুভ প্রভাব থাকবেই। অন্তত যতক্ষণ রাহু মঙ্গলের নক্ষত্রে থাকবে। রাহু মঙ্গলের নক্ষত্রে প্রবেশ করেছে গত ৩ আগস্ট। থাকবে ৬ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত। নভেম্বর ২০২৬ থেকে ৬ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত রাহুর এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চলতে থাকবে। তা ব্যাপক আকার নিতে পারে ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে। এই সময়ের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। প্রতিবেশী কোনও রাষ্ট্র ভারতের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে এই সময়। আগুন, লোকক্ষয় বা ভূমিকম্পের মত প্রাণঘাতী ঘটনা বেড়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
এবার আসা যাক মঙ্গলের ভূমিকায়। মঙ্গল বর্তমানে রাহুর নক্ষত্রে এবং মিথুন রাশিতে অবস্থান করছে। এটিও একটি অশুভ যোগ। সেই কারণেই অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে। যা আগামীতে আরও বাড়বে বলেই মনে করছে জ্যোতিষশাস্ত্র। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মঙ্গল নীচস্থ হবে এবং তার প্রভাব ১২ নভেম্বর পর্যন্ত থাকবে। এই সময়ও কিছু দুর্ঘটনা, রক্তপাত বা অগ্নিকাণ্ডের মত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তবে মঙ্গল সে সময় বৃহস্পতির নক্ষত্রে থাকায় ঘটনার অভিঘাত কম হবে।
