এক হারতে বসা সমাজকে জিতিয়ে দেওয়ার ছবি আঁকল পাঞ্চজন্য
শৌভিক সরকার
গোবরডাঙা শিল্পায়নের দীপা ব্রহ্ম মঞ্চে এক অভূতপূর্ব নাট্যসন্ধ্যার সাক্ষী থাকলেন অসংখ্য দর্শক। মঞ্চস্থ হল পাঞ্চজন্য নাট্যদলের নতুন প্রযোজনা ‘শেষ আগন্তুক’। নাটক নিখেছেন রুদ্র রায়। নির্দেশনাও তাঁরই।
প্রতিটি শিল্পীর অভিনয়ে এমন একটা টানটান ভাব ছিল যে, একবারও মনে হয়নি এটিই এই নাটকের প্রথম অভিনয়। নাটকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা কী হয়, কী হয় একটা ভাব দর্শকদের মনে জাগিয়ে রেখেছিলেন নির্দেশক। সেটাই ছিল এই নাটকের সবচেয়ে বড় একটা শক্তি।
কাহিনির কেন্দ্রে থ্রিলার লেখক শঙ্খ। যে হেরে বসে আছে জীবনের কাছে। সংসারে সে পরাজিত, সমাজের নোংরামি, ইতরতার কাছেও সে পরাভূত। এমনকী প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও সে ব্রাত্য। এহেন শঙ্খ মানসিক–রিলিফ পায় শুধু তার গল্পে। যেখানে তার কেন্দ্রীয় চরিত্র সমাজের নোংরা মানুষদের পরিষ্কার করে।
শঙ্খর উচ্চাভিলাসী স্ত্রী সর্বানী জড়িয়ে পড়ে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে। সে তার রাস্তা পরিষ্কার করতে শঙ্খকে সরিয়ে দিতে চায়। তাই ‘সুপারি কিলার’ নিয়োগ করে।
ভাড়াটে খুনী অর্ক আসে শঙ্খর বাড়িতে। কিন্তু তারপর কী হয়? এখানেই রয়েছে নাটকের ক্লাইম্যাক্স। নাটকের মুডের সঙ্গে যোগ্য সংগত করে প্রযোজনাটিকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে বাবলু সরকারের আলোক নির্মাণ। যার হাতযশে অসামান্য আলোছায়ার নির্মাণ দেখার অভিজ্ঞতাপান দর্শক। সঙ্গ দিয়েছে কৌশিক কুন্ডুর আবহ।
অভিনয়ে সবাই যথাযথ। বিশেষ করে প্রপার্টিসের ব্যবহার বেশ ভালো। তবে কোনও কোনও অভিনেতার কন্ঠের ব্যবহার দর্শকদের কামন পর্যন্ত সংলাপ পৌঁছে দিতে অসুবিধে তৈরি করেছে। ভিজ্যুয়াল এফেক্ট কোথাও কোথাও বাধা পেয়েছে সেটে।
তবে সামগ্রিকভাবে এক হেরে যাওয়া সমাজের ছবি তুলে ধরতে পাঞ্চজন্য–র এই প্রয়াস প্রশংসার দাবি রাখে। নাটকের শেষে হারতে থাকা এই সমাজের জিতে যাওয়ার আবহ নতুন করে বাঁচার আশা দেখায়।
