জতুগৃহ ‘শিখা ইন’, বেপাত্তা মালিক বীরেশ্বর
নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৫ জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেল কেড়ে নিয়েছে তরতাজা ৯টি প্রাণ। মঙ্গলবার রাতের ঘটনা অনেকগুলো প্রশ্নের মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। হোটেলের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই প্রশ্ন উ্ছে হোটেলটির পরিকাঠামো ব্যবস্থা নিয়ে। ইতিমধ্যেই হোটেলের ম্যানেজারকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্র। জানা গেছে, ব্যবসায়ী বীরেশ্বরের ওই এলাকায় একটি নয়, বরং দুটি হোটেল রয়েছে। ‘শিখা ইন’ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ‘যাপন’ নামে আরও একটি হোটেলের মালিক তিনি। জানা গেছে, ‘শিখা ইন’–এ আগুন লাগার পর ‘যাপন’–এর ম্যানেজার বারবার বীরেশ্বরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। প্রথমে ফোন বেজে গেলেও তিনি ধরেননি। কিন্তু তারপর থেকেই ফোন সুইচড অফ।
এদিকে হোটেল মালিকের খোঁজে মঙ্গলবার সকালেই তার বাড়ি বেহালার ৩ নম্বর রায়বাহাদুর রোডে যৌথভাবে হানা দেয় বেহালা এবং নিউ মার্কেট থানার পুলিশ। আবাসনের ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালানো হয়। তাঁর ফ্ল্যাটসহ পুরো চত্বরে অভিযান চালিয়েও বীরেশ্বর মিত্রকে পাওয়া যায়নি। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বীরেশ্বর মিত্রের দুটি গাড়ি আছে। তার মধ্যে একটি গাড়ি ফ্ল্যাটের নীচেই রাখা রয়েছে। অনুমান, অন্য গাড়িটি নিয়ে পালিয়েছেন ‘শিখা ইন’–এর মালিক। নিউ মার্কেট থানায় নির্দিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। দমকলের অভিযোগে দায়ের হয়েছে এফআইআর।
মির্জা গালিব স্ট্রিটে বীরেশ্বর মিত্রের যে দুটো হোটেল রয়েছে সে দুটোই অত্যন্ত ছোট্ট জায়গায়। ভাড়া সাধারণের নাগালের মধ্যে হাওয়ায় আবাসিকের ভিড় লেগেই থাকে। নন এসি ঘরের ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা থেকে শুরু। এসি ঘরের ভাড়া শুরু ৮০০ টাকা থেকে। বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা বহু মানুষ এই হোটেলগুলো বেছে নেন। ১৫ জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের বাড়িটিতে বেশ কয়েকটি হোটেল ও গেস্ট হাউস আছে। যার মধ্যে অন্যতম তিনতলার ‘শিখা ইন’। সবকটি হোটেল ও গেস্ট হাউসের আবাসিকদের যাতায়াতের জন্য সামনের দিকে একটাই মাত্র লোহার সিঁড়ি। পরিবেশ খুবই ঘিঞ্জি। একটা তলাতেই ১০ থেকে ১২টা করে ঘর। মঙ্গলবার রাতে মূল দরজা ছিল তালাবন্ধ। অন্যদিকে আগুনের তাপে লোহার সিঁড়ি এতটাই গরম হয়ে যায় যে, অনেকেই বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি।
নিউ মার্কেটের হোটেলের এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। গভীর শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, প্রশাসন সব রকমভাবে সাহায্য করবে।
