পুজোয় বীরভূম জেলা প্রশাসনের মণ্ডপে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রচার ও সম্মাননা প্রদান
সংবাদদাতা, সিউড়ি: আনন্দ উৎসবের আলো ঝলমলে আবহে কন্যা শিশু সুরক্ষা ও নারী শিক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিল বীরভূম জেলা প্রশাসন। সিউড়ি শহর সহ জেলার বিভিন্ন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে জোরকদমে চালানো হচ্ছে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচার। শুক্রবার এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়কে কাজে লাগিয়ে সচেতনতার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এর জন্য একটি বিশেষ জিঙ্গল তৈরি করা হয়েছে, যা পুজোর দিনগুলিতে প্রতিটি মণ্ডপে বাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি মণ্ডপ প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে কিউআর কোড সম্বলিত বিশেষ ব্যানার। সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা নিজেদের মোবাইল থেকে ওই কিউআর কোড স্ক্যান করে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন নারী কল্যাণমুখী প্রকল্প এবং কন্যা সুরক্ষার তথ্য অনায়াসে জানতে পারছেন।
এ দিন সচেতনতা প্রচারের কথা জানানোর পাশাপাশি ‘দেবী দুর্গা সম্মাননা’-র বিজয়ী পুজো কমিটিগুলির নামও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জেলাশাসক। জেলার সেরা পুজো কমিটিগুলিকে উৎসাহিত করতে মোট চারটি বিভাগে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। বিভাগগুলি হল— ‘সেরা পুজো’, ‘সেরা প্রতিমা’, ‘সেরা মণ্ডপ’ এবং ‘সেরা সমাজ সচেতনতা’। প্রতিটি বিভাগে তিনটি করে ক্লাবকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে চার বিভাগে মোট ১২টি পুজো কমিটি জেলা প্রশাসনের এই বিশেষ সম্মান লাভ করল।
জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশকে এগিয়ে আনা এবং কন্যা সন্তানের অধিকার রক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।
