মনোজকে ‘ভোটচোর’ বলায় কোর্টের সমালোচনায় মুখে সাংসদ মহুয়া মৈত্র
সংবাদাতা, কলকাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে সমাজমাধ্যমে ‘ভোটচোর’ বলেছিলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কৃষ্ণনগরের সাংসদের সেই মন্তব্যেই নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতার আলিপুর আদালত। কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে নিয়ে সমাজমাধ্যমে মহুয়া যে মন্তব্য করেছেন, তার সপক্ষে প্রমাণ দিতে পারেননি। নির্দেশনামা পেয়েই সেই মন্তব্য মুছতে হবে বলে জানিয়েছে কোর্ট। মহুয়াকে তাঁর মন্তব্যের জন্য আইনি নোটিস পাঠান মনোজ। ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১০ কোটি টাকা দাবি করেন। পরে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালত জানায়, মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে মানহানিকর কোনও মন্তব্য করে মহুয়া সমাজমাধ্যমে নতুন পোস্ট শেয়ার করতে পারবেন না। ওই সংক্রান্ত পুরনো কোনও পোস্টও ফের শেয়ার করতে পারবেন না। গত ৩ অক্টোবর এবং ৬ অক্টোবর মহুয়া যে পোস্ট করেছিলেন, নির্দেশনামা পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা মুছতে হবে বলেও জানিয়েছে কোর্ট। মহুয়াকে নোটিস দিয়ে জানাতে হবে, কেন তাঁর মন্তব্যে আদালত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে না।
আদালত জানায় মহুয়ার পোস্টগুলিতে শুধু এসআইআরের সমালোচনা করা হয়নি। বরং মনোজের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই অভিযোগগুলির সমর্থনে মহুয়া কোনও প্রমাণ দেননি। ফলে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগগুলির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এসআইআরের মতো জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা বা সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা যাবে। কিন্তু সেই সমালোচনার নামে ব্যক্তিগত ভাবে কাউকে অপমান করা যাবে না। আগামী ৫ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
মনোজের অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে তাঁকে ‘ভোটচোর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন মহুয়া। কোনও প্রমাণ ছাড়াই সেই পোস্ট করেছিলেন মহুয়া। সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া এ রকম করা যায় না। মনোজের আইনজীবী জানান, প্রাক্তন সিইও কোনও ভোট চুরি, কারচুপি বা বেআইনি কাজ করেননি। তাঁর কাজ ছিল আইন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে সরকারি দায়িত্ব পালন করা।
মনোজের তরফে মহুয়াকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে দাবি করা হয়, মহুয়ার অভিযোগের ফলে তাঁর সততা, পেশাগত দক্ষতা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নোটিস পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহুয়াকে দু’টি পোস্ট মুছে ফেলতে হবে। সেই সঙ্গে লিখিত ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের মানহানিকর মন্তব্য করবেন না বলে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা এবং আইনি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। মনোজের তরফে জানানো হয়, তাঁর আইনি নোটিসের জবাব না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনি পদক্ষেপ করা হবে। নোটিস পাওয়ার পরে মহুয়া এক্স হ্যান্ডেলে জানান, তিনি তা নিয়ে তোয়াক্কা করেন না।
