টিফিনের পয়সা জমিয়ে দুর্গাপুজো! নিজের হাতে প্রতিমা গড়ে, রুপোর গয়না পরাল শান্তিপুরের ছোট্ট সৌমাল্য
সংবাদদাতা, শান্তিপুর: শারদীয়ার আবহে চারদিকে যখন উৎসবের উন্মাদনা, বসন্তের হাওয়ায় দুলছে কাশফুল। আর ঢাকের কাঠি পড়ার অপেক্ষায় রাত জাগছে শহর থেকে গ্রাম— ঠিক তখনই নিজের অদম্য ভক্তি ও সৃজনশীলতায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল নদীয়ার শান্তিপুরের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সৌমাল্য সাহা। শান্তিপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌমাল্য গত পাঁচ বছর ধরে নিজের হাতে প্রতিমা ও মণ্ডপ বানিয়ে দেবী মহিষমর্দিনীর আরাধনা করে আসছে। শুভ পঞ্চমীতে দেবীকে পাটে তুলতেই তার পুজোয় ঢাকে কাঠি পড়ে গেল।
বয়স মাত্র ১৩-১৪ বছর। কিন্তু দেবীর প্রতি তার টান এবং নিষ্ঠা তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। সৌমাল্য বাজার থেকে প্রতিমা না কিনে নিজের হাতেই নিপুণ নিখুঁতভাবে গড়ে তুলেছে প্রায় দু’ফুট উচ্চতার এক অপূর্ব দুর্গা প্রতিমা। শুধু প্রতিমা গড়ে ক্ষান্ত হয়নি সে, নিজের হাতে সাজিয়ে তুলেছে পুজো মণ্ডপও। স্কুলের টিফিনের জমানো টাকা দিয়ে সে মা দুর্গার জন্য কিনেছে রুপোর অলংকার! তাতেই সাজিয়ে তুলেছে তার আরাধ্যা দেবীকে। শুধু তাই নয়, পুজো মণ্ডপ তৈরি থেকে শুরু করে পূজারীর আসনে বসে মন্ত্রোচ্চারণ— পুরো দায়িত্বই নিজের কাঁধে তুলে নেয় এই খুদে মণ্ডপশিল্পী ও পুজো উদ্যোক্তা।
সৌমাল্যের মা জিমি সাহা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, ছোটবেলা থেকেই সৌমাল্যর প্রতিমা তৈরির প্রতি এক অদ্ভুত ঝোঁক ছিল। নিজের হাতেই প্রতিমা আর মণ্ডপ তৈরি করে ঘরে পুজো শুরু করে। ছেলের এই নিষ্ঠা ও মাতৃভক্তিতে আমরা ভীষণ গর্বিত। আগামী দিনে ও যেন এই পুজোকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেটাই আমাদের প্রার্থনা। সৌমাল্যের এই মহৎ প্রয়াসে শামিল হয়ে শারদীয়ার আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশীরাও।
নিজের এই বিশেষ ভাবনা প্রসঙ্গে সৌমাল্য বলে, ‘বড় বড় পুজো মণ্ডপে কোটি টাকার প্রতিমা দেখতে ভিড় জমায় মানুষ। কিন্তু আমার আনন্দ আমার গড়ে তোলা মা দুর্গাকে ঘিরে। আমার কাছে আমার তৈরি প্রতিমাই সবচেয়ে সুন্দর, আমার মণ্ডপই আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তাই পূজোর এই ক’টা দিন নিজের হাতে গড়া দেবী দুর্গা আর জন্মদাত্রী মাকে নিয়েই আনন্দে মেতে থাকতে চাই। ছোট্ট সৌমাল্যের এই মাতৃভক্তি আর নিষ্ঠা আজ শান্তিপুরের ঘরে ঘরে এক নতুন আনন্দের সুর পৌঁছে দিয়েছে।
