হলদিয়ায় শিল্পের পুনর্জাগরণ, ৬ হাজার কোটি টাকার নতুন কারখানার উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর
সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকার ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানার উদ্বোধন বুধবার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই শিল্পপ্রকল্পকে রাজ্যের শিল্পায়ন এবং দেশের আত্মনির্ভরতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরলেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যে আরও বিনিয়োগ, নতুন শিল্পপ্রকল্প, স্থানীয় যুবক-যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের চিকিৎসার পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক পরিকল্পনার কথাও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানা দেশের মধ্যে বৃহত্তম। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ অধীনস্থ সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড এই প্রকল্প গড়ে তুলেছে। এই কারখানার উদ্বোধনের পরে আত্মনির্ভরতার কথা উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। আরও ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। যে রাসায়নিকের জন্য আগে বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভর করতে হতো, এই কারখানা চালু হওয়ায় সেই নির্ভরতা কমবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যপূরণে এই উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে। এদিনের মঞ্চ থেকে কর্মসংস্থানের বিষয়টিও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হলদিয়ার এই কারখানায় সরাসরি প্রায় ৪০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষ ভাবে কাজ পেয়েছেন আরও প্রায় এক হাজার জন। স্থানীয় যুবক-যুবতীদের দক্ষতা বাড়িয়ে শিল্পের উপযোগী করে তোলার উপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কমবয়সি যুবক-যুবতীদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের কথা উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। এর পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল না হলে স্কিল বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভাতা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে আত্মনির্ভর হতে হবে। এটাই আজ আমাদের শপথ হওয়া উচিত।তাঁর এই মন্তব্যে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার উপর সরকারের জোর দেওয়ার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।
হলদিয়ায় নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৫০ একর জমিতে প্রভিস কোম্পানি মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট বা চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা গড়ে তুলবে। পাশাপাশি আইডব্লিউএল এবং আইওসিএলের প্ল্যান্টের জন্যও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে হলদিয়ায় ৫০ শয্যার একটি ট্রমা সেন্টার তৈরি করার পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। কাজের সময় দুর্ঘটনায় পড়লে শ্রমিকরা যাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা পান, সেই লক্ষ্যেই এই কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।তাঁর ঘোষণা, পুজোর পরে হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার প্রকল্পের ভূমিপূজন অনুষ্ঠান হবে। পাশাপাশি নতুন শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। দিওয়ালির আগেই সেই শিল্পনীতি ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
হলদিয়ার ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানার উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে সামনে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।
