১৪ বছরের অরিতের মাটির ‘চাঁদের দুর্গা’ তৈরির নজরকাড়া সাফল্য
সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ১৪ বছর বয়সের নবম শ্রেণির ছাত্র অরিত দত্তগুপ্তের মাটির দুর্গা প্রতিমা তৈরির এই নজরকাড়া সাফল্য বর্তমান প্রজন্মের সৃজনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ। জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বেলাকোবার শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আদর্শপাড়ার বাসিন্দা অরিত প্রমাণ করে দিয়েছে যে, প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে বয়স কোনও বাধা নয়।
পরিবারে কোনও পেশাদার মৃৎশিল্পী না থাকা সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকেই মাটির প্রতি অরিতের গভীর আকর্ষণ ছিল। কুমোরপাড়া থেকে মাটি এনে ছোট ছোট পুতুল তৈরির মাধ্যমে তার শিল্পচর্চা শুরু হয়। ২০২২ সালে মাত্র পাঁচ ইঞ্চির প্রতিমা তৈরির মধ্য দিয়ে তার এই সৃজনশীল যাত্রার সূত্রপাত ঘটে। এরপর ২০২৫ সালে সে দু’ফুট দু’ইঞ্চির একটি কালীপ্রতিমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেয়। আর এবার মাত্র ১৫ দিনের পরিশ্রমে সে তৈরি করেছে দু’ফুট সাত ইঞ্চির ‘চাঁদের দুর্গা’।
শুধু দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতেই অরিতের শিল্পকর্ম সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে সে মাটি দিয়ে সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, শিব, ডাকিনী-যোগিনী, শিয়াল, সাপ এবং ছিন্নমস্তার মতো জটিল মূর্তি তৈরি করেছে। এমনকী সিমেন্ট দিয়ে বজরঙ্গবলির মূর্তি গড়ে তুলে সে তার বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে। এবারের ‘চাঁদের দুর্গা’ প্রতিমাটিকে ফুটিয়ে তুলতে সে সাদা, কালো, লাল, হলুদ, নীল, সবুজ ও বাদামি সহ মোট ১৭ ধরনের রঙের ব্যবহার করেছে, যা তার কাজের নিখুঁত ও নান্দনিক দিকটিকে ফুটিয়ে তোলে।
বেলাকোবা হাইস্কুলের নবম শ্রেণির এই ছাত্র পড়াশোনার পাশাপাশি তার এই শখকে যেভাবে টিকিয়ে রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই নিবিড় সাধনা ও ধৈর্য কেবল তার পরিবার বা এলাকাবাসীকে নয়, বরং গোটা রাজ্যকে গর্বিত করেছে। অল্প বয়সে অরিত্রের এই শিল্পকর্ম প্রমাণ করে যে, সঠিক ইচ্ছা ও সৃজনশীলতা থাকলে যেকোনও প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে নিজের প্রতিভাকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
