রাহুলকে ‘অস্থির’ ও ‘নৈরাজ্যবাদী’ বলে আক্রমণ, প্রমাণ দেখানোর দাবি অনুরাগ ঠাকুরের
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও ভোটার তালিকার SIR-এর বিরুদ্ধে বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। তাঁকে ঘিরে একের পর এক কটাক্ষ ছুঁড়লেন বিজেপির অনুরাগ ঠাকুর। রাহুলকে ‘অস্থির’ ও ‘নৈরাজ্যবাদী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি কংগ্রেস নেতা। তাঁর বক্তব্য, ভিন্নমত পোষণ করা অধিকার ঠিকই, কিন্তু অভিযোগের পিছনে প্রমাণ থাকা চাই।
রাহুল দীর্ঘদিন ধরে যে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলছেন, তা নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করেছে ইন্ডিয়া জোটের আইনি দল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিরোধী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করতে রাজি না হলেও জানিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য খোলা। এর মধ্যেই ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন।
অনুরাগ ঠাকুরের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজনৈতিক বিবাদ রাস্তায় নামিয়ে বিচারবিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে কংগ্রেস। তাঁর কথায়, আদালতে যাওয়ার অধিকার সবার আছে, কিন্তু কংগ্রেস এমন আচরণ করছে যেন তারা সংবিধান, নিয়ম ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার ‘নৈতিক অধিকার’ কংগ্রেসের নেই। এই প্রসঙ্গে ১৯৮৯ সালের এক নির্বাচনে কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে বুথ দখলের অভিযোগের কথাও তোলেন তিনি। পরপর নির্বাচনী পরাজয়ের দায় ‘পোলবয়’-এর ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন। অনুরাগ ঠাকুরের কথায়, প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করাই কংগ্রেসের ইতিহাস, আর ‘রাজ নয়তো অরাজকতা’ই তাদের রাজনৈতিক মডেল।
প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নামে পুলিশকর্মী ও মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এ নিয়ে ভিডিও সবার সামনেই আছে এবং সমাজমাধ্যমে তাঁদের ট্রোল করা হচ্ছে। কংগ্রেসের স্লোগান ‘লড়কি হুঁ, লড় সকতি হুঁ’ এখন যেন ‘মহিলাওঁ কো মার সকতি হুঁ’-তে বদলে গেছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এই অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেস এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
রাহুলের জবাব
এর আগে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্ব না বদলানো, সংবিধানের অধিকার রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীদের লড়াই চলবে। তাঁর দাবি, এই প্রতিবাদের কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এটা স্বতঃস্ফূর্ত, ‘শিবের তাণ্ডব’-এর মতো। রাহুলের কথায়, ভারত পরিকল্পনা মেনে প্রতিরোধ করে না, ভারত হৃদয় দিয়ে প্রতিরোধ করে, আর সেই প্রতিরোধ চলছে এবং চলবে।
