ভারতীয় নৌসেনার হাতে এল ডুবোজাহাজ আইএনএল মঙ্গরোল
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: অগভীর জলে চলাচলে সক্ষম বিধ্বংসী ডুবোজাহাজ পেল ভারতীয় নৌসেনা। এটি তৈরি করেছে কেরলের ‘কোচি শিপইয়ার্ড লিমিটেড’। সোমবার আইএনএস মঙ্গরোল আনুষ্ঠানিক ভাবে বাহিনীতে যোগ হল । সামরিক পরিভাষায় এই ধরণের ডুবজাহাজকে বলা হয় ‘অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট’। এই ডুবজাহাজের জলে ডুবে থাকা অংশটির দৈর্ঘ্য মাত্র ২.৭ মিটার। তাই এগুলি সমুদ্রের উপকূলবর্তী বা অগভীর এলাকায় খুব দ্রুত গতিতে নিখুঁত ভাবে নিশানা লাগাতে পারে। শুধু তাই নয়, শত্রুপক্ষের বিমান এবং হেলিকপ্টারের ওপরেও হামলা চালাতেও পারে এই জলযান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, একই সঙ্গে চীন এবং পাকিস্তানের হামলা মোকাবিলার জন্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌসেনার হাতে ২০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন রাখার লক্ষমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রাডার নজরদারি প্রতিরোধী ‘স্টেলথ টেকনোলজি’-যুক্ত ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ার, কর্ভেট শ্রেণির রণতরী, ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী জলযান, ‘মাইন কাউন্টার মেজার ভেসেল’-এর মতো ছোট জলযান এবং ডুবোজাহাজ তৈরির ওপর। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবেই অগভীর জলে চলাচল করতে পারে এরকম বিধ্বংসী ডুবোজাহাজ তৈরি করা হচ্ছে।
মঙ্গরোলের অস্ত্র এবং নজরদারি সরঞ্জামের ভাণ্ডারে রয়েছে ‘অভয়’ হাল-মাউন্টেড সোনার, লাইটওয়েট টর্পেডো, অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার, মারিচ অ্যাডভান্সড টর্পেডো ডিকয় সিস্টেম প্রভৃতি। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতীয় নৌসেনায় প্রায় ১৪০টি জলযান রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ডিজ়েল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন। এ ছাড়াও আছে , দু’টি এসএসবিএন (পরমাণু শক্তিচালিত এবং পরমাণু অস্ত্রবাহী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রযুক্ত) ডুবোজাহাজ। রয়েছে দু’টি বিমানবাহী রণতরীও।
