বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ঘাটে তর্পণের ভিড়

10 October, 2026 4:35 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: কাকভোরে উদাত্ত কণ্ঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের স্তোত্রপাঠ। আর গঙ্গাঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। মহালয়ার সকালে চেনা ছবি গোটা রাজ্যে। শনিবার সকালে বাবুঘাট থেকে জাজেস ঘাটে পিতৃ তর্পণ করলেন বহু মানুষ। প্রতিটি ঘাটে চোখে পড়ল কড়া নিরাপত্তা। জলপথে চলল নজরদারি। ঘাট লাগোয়া রাস্তায় নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল।
আশ্বিন মাসে শুক্লপক্ষের প্রথম দিন পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে মাতৃ পক্ষের সূচনা হয় । আর সেই পুণ্য লগ্নে সনাতন ধর্মী মানুষজনেরা তাদের পূর্বপুরুষদের তর্পনের মাধ্যমে জল প্রদান করেন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই রীতি পালনের জন্য ভোর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে উপস্থিত হয়েছেন পুরুষ ও মহিলারা। এদিন বাবুঘাটের গঙ্গার ঘাট গুলোতে রয়েছে পুলিশের বিশেষ নজরদারি। পুরুষ পুলিশ বাহিনীর সাথে সাথে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে মহিলা পুলিশের দুর্গা বাহিনী। এছাড়াও গঙ্গা নদীর ওপরে নৌকা ও বোটের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে হুগলী রিভার ট্রাফিক গার্ড ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের দল ।

নদীয়ার শান্তিপুরের বিভিন্ন ভাগীরথী ঘাটে সকাল থেকেই পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ সারতে ভক্তদের ঢল নামে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় গোটা ঘাট চত্বরে তৈরি ছিল কড়া প্রশাসনিক নজরদারি। সাতসকালেই বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শনে নামেন শান্তিপুরের বিধায়ক ও পুরসভার প্রতিনিধিরা।
দুর্গাপুর ব্যারেজের দামোদর নদীর ঘাটে ভিড় জমালেন অসংখ্য মানুষ। সকাল থেকেই পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করতে ঘাটে আসেন পুণ্যার্থীরা। ধর্মীয় রীতি মেনে জল তর্পণের মধ্য দিয়ে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেন তাঁরা।
পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এই বিশেষ তৎপরতা। মহালয়ার পবিত্র সকালে তর্পণকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুর ব্যারেজের দামোদর ঘাট, বিসর্জন ঘাটে দেখা গেল ভক্তি ও শ্রদ্ধার আবহ।

দেবীপক্ষের সূচনায়  হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে সাগরদ্বীপে। সাগরে স্নান ও তর্পণ সেরে সকাল থেকেই কপিলমুনি আশ্রমে পুজো দিতে যান পুণ্যার্থীরা। ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও ব্লক প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছেিল বিশেষ ব্যবস্থা। কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাট, মূল স্নানঘাট এবং কপিলমুনি আশ্রম চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। জলপথে দুর্ঘটনা এড়াতে সক্রিয় ছিল কোস্টাল পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। নির্দিষ্ট ড্রপ গেট এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যাতায়াতের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত বাস ও ভেসেল চালানো হয়।  তর্পণ করে কপিলমুনি মন্দিরে পুজো দেন সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন নদীর ঘাটেও সকাল থেকে মহালয়ার পুণ্যস্নান ও তর্পণ করতে ভিড় জমিয়েছিলেন  মানুষ। সংশ্লিষ্ট ঘাটগুলিতেও পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে নজরদারি চালানো হয়। এর পাশাপাশি বারুইপুরের সদাব্রত গঙ্গার ঘাটেও তর্পণ করার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন  এলাকাবাসী৷

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik