দেরিতে হলেও মুখ্যমন্ত্রী ও পদ্ম শিবিরের পাশে সংখ্যালঘু ভোট, মন্তব্য অর্জুন সিংয়ের
সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা: রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তুমুল চর্চা। এতদিন যে কেন্দ্রকে বিরোধীরা তৃণমূল বা অন্য দলের শক্ত ঘাঁটি বলে দাবি করত, সেখানে বিজেপির জয়কে এক অনন্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। এই জয়ের পরই এক প্রেস বার্তায় রাজ্য সরকারের পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং দাবি করেন, রেজিনগরের মানুষ ভয়ের বাতাবরণ কেটে বেরিয়ে এসে উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। মন্ত্রীর মতে, নন্দীগ্রাম সব সময়ই বিজেপির জেতা আসন এবং সেখানে জয় অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। তবে রেজিনগরের লড়াই ছিল পার্টির কাছে আসল ‘অ্যাসিড টেস্ট’। প্রায় ৬৫ শতাংশ মুসলিম ভোটার অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে বিজেপির জয় প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখন বিভ্রান্তিকর রাজনীতির ফাঁদে পা না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন। দেরিতে হলেও রেজিনগরের সংখ্যালঘু মানুষ সত্যিটা বুঝতে পেরেছেন এবং উন্নয়নের ধারার সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিতর্কিত রাজনীতিক হুমায়ূন কবিরকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অর্জুন । বলেন, হুমায়ূন কবিরের কথায় এলাকার মানুষ আর ভরসা রাখেন না। তিনি সময়ে সময়ে অবস্থান বদল করেন এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করেন। বাবরি মসজিদ নির্মাণের নামে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ তুলে মন্ত্রী জানান, বাবরি নামে কোনও মসজিদ এই এলাকায় হতে দেওয়া হবে না। মানুষ প্রার্থনা বা উপাসনার জন্য মসজিদ তৈরি করতেই পারেন, তাতে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু বাবরি নাম বা রাজনৈতিক অভিসন্ধি মেনে নেওয়া যায় না।
রেজিনগরের এই জয় উত্তর ২৪ পরগনা সহ সমগ্র রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মোড় এনে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভয়ের রাজনীতি কাটিয়ে মানুষ যে পদ্ম পতাকার নিচে আস্থা রাখছেন, রেজিনগরের রায়ই তার সেরা প্রমাণ বলে অর্জুন সিং মন্তব্য করেছেন।
