রাজনৈতিক সৌজন্য: আক্রান্ত সিপিএম নেতার বাড়িতে বীজপুরের বিধায়ক
সংবাদদাতা, কাঁচরাপাড়া: রাজনৈতিক হানাহানি ও মতপার্থক্যকে দূরে সরিয়ে এক অনন্য সৌজন্যের নজির দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে আক্রান্ত হন সিপিএমের কাঁচরাপাড়া অঞ্চল কমিটির সম্পাদক দেবাশিস রক্ষিত ওরফে ববি। শুক্রবার সকালে আক্রান্ত এই সিপিএম নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে আচমকাই তাঁর বাড়িতে হাজির হন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস।
বৃহস্পতিবার বিকেলে একাধিক স্থানীয় ও রাজনৈতিক দাবি নিয়ে কাঁচরাপাড়ার দ্বারভাঙা কলোনি এলাকায় স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করেছিল সিপিএমের কাঁচরাপাড়া অঞ্চল কমিটি। কর্মসূচিতে যোগ দিতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সেখানে জমা হয়েছিলেন দেবাশিস। অভিযোগ, সেই সময় স্থানীয় কিছু অটো এবং টোটো চালক বিক্ষোভকারীদের পথ আটকায়। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি জটিল রূপ নিলে আক্রান্ত হন দেবাশিস। শরীরে একাধিক আঘাত পাওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
খবর পেয়েই শুক্রবার আক্রান্ত সিপিএম নেতার বাড়িতে পৌঁছোন বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। দেবাশিস রক্ষিতের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক বলেন, ‘ববিদার সঙ্গে আমার বহুদিনের পুরনো ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক। বৃহস্পতিবার যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ববিদা একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক। একজন ভাই ও সহ-নাগরিক হিসেবে শুধু ওঁর শারীরিক অবস্থার খবর নিতেই এখানে এসেছি। দলমত নির্বিশেষে রাজনীতিতে এই ধরনের ন্যূনতম সৌজন্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।’
বিপদের দিনে বিধায়কের এই আচমকা উপস্থিতি এবং সহমর্মিতাকে কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দারা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও কঠিন সময়ে এমন মানবিক পদক্ষেপ সুস্থ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির এক অনন্য বার্তা।
