সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নানা ছিলেন সবার আগে
মিঠুন চক্রবর্তী
অভিনেতা
আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন নানা। তাঁর এভাবে চলে যাওয়া মানতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে। এত বড় মাপের অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও নানা ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তাঁর জীবনযাপনে কখনও কোনও বিলাসিতা ছিল না। পোশাক পরিচ্ছদ দেখলেই তাঁর সরল, সাদাসিধা জীবনযাপনের পরিচয় পাওয়া যেত। শুধু অভিনয় নয়, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও নানা ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের কৃষকদের জন্য তাঁর অবদান কখনও ভোলার নয়। এরকম সমাজ সচেতন মানুষ খুব কম দেখা যায়। নিজের সাধ্যের মধ্যে যেটুকু সম্ভব, তাই দিয়েই মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতেন নানা।
অনেক সময়ই নানা পাটেকরের রাগী স্বভাব বা বদমেজাজের কথা নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক জায়গায়। অনেককে এই বিষয়ে অভিযোগ করতে শুনেছি। কিন্তু একটা কথা কি ভেবে দেখেছেন কখনও ? চারপাশের পরিবেশ বা পরিস্থিতি যদি বিশৃঙ্খল হয়, তাহলে রাগ হওয়াটা কি সত্যিই অস্বাভাবিক কিছু ? এ বিষয়ে নানা কখনও কোনও রাখঢাক করেননি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজেও জানিয়েছেন যে, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা তাঁর পক্ষে সবসময় সহজ ছিল না।
নানা পাটেকরের সঙ্গে মাত্র একটি ছবিতেই অভিনয় করার সৌভাগ্য হয়েছিল। ‘সাগর সঙ্গম’। দুলাল গুহ পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৮ সালে। ছবির কাহিনিতে চূড়ান্ত অ্যাকশন ও ড্রামা দর্শকের মন কেড়েছিল। একটি বিশেষ চরিত্রে ছিলেন নানা। তবে একটি মাত্র ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করলেও আমাদের বন্ধুত্ব কিন্তু পর্দার সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সেই সখ্য ছিল বাস্তব জীবনের সুতোয় বাঁধা। নানার এই আচমকা চলে যাওয়ায় কাছের বন্ধু হারানোর শোক বোধ করছি।
