বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

প্রয়াত নানা পাটেকর, ৭৫-এ থামল পাঁচ দশকের অভিনয়-যাত্রা

08 October, 2026 11:03 AM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

গোয়া: প্রয়াত বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়াবন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রে তাঁর জন্ম। তাঁর প্রকৃত নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। থিয়েটার দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ। তারপর একের পর এক ছবিতে তাঁর অভিনয় ভারতীয় সিনেমায় তৈরি করে আলাদা জায়গা।

‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘প্রহার’, ‘খামোশি’, ‘অব তক ছাপ্পন’, ‘নটসম্রাট’ থেকে ‘ওয়েলকাম’—গভীর ও তীব্র চরিত্রের পাশাপাশি হাস্যরসাত্মক চরিত্রেও সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন নানা পাটেকর। বিশেষ করে ‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেট্টি চরিত্র তাঁকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও বিপুল জনপ্রিয় করে তোলে।

শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, পরিচালক হিসেবেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন নানা। ১৯৯১ সালে তাঁর পরিচালনায় মুক্তি পায় ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’। অভিনয়ের জন্য একাধিক জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।

নানা পাটেকরের জীবন ছিল পর্দার বাইরেও বৈচিত্র্যময়। ‘প্রহার’-এর জন্য সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময়ও তিনি সেনাদের সঙ্গে ছিলেন। সামাজিক কাজের সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি। ব্যক্তি জীবনেও তাঁর মধ্যে দেখা গিয়েছে এক প্রতিবাদী সত্তা। তাই মানুষ হিসাবেও তিনি শ্রদ্ধা পেয়েছেন।

মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগেও গোয়ার একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অক্ষয় কুমার-সহ বহু শিল্পী ও বিশিষ্টজন তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

নানা পাটেকর চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর কণ্ঠ, সংলাপ বলার অনন্য ভঙ্গি এবং চরিত্রের ভিতরে ঢুকে যাওয়ার অভিনয়শক্তি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

প্রতিবেদন

Sandipan Saha