বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

আজ শিল্ড ফাইনালের মঞ্চে ডার্বি ম্যাচে দুই কোচের স্ট্রাটেজির লড়াই

08 October, 2026 11:57 AM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: আজ সন্ধ্যায় সল্টলেকের যুবভারতীতে আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল। মুখোমুখি মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। একই মরশুমে বারবার দেখা হয়ে গেলেও এই ম্যাচের উত্তাপ আলাদা। কারণ সামনে ট্রফি, আর পিছনে মাত্র দেড় মাস আগে ডুরান্ড কাপ ফাইনালের ১-৪ হারের স্মৃতি। এটা তাই শুধু ফুটবলারদের লড়াই নয়। আসল লড়াইটা হতে পারে দুই কোচের স্ট্রাটেজিতে। সেই মতো দাবার চাল সাজিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের আন্তোনিও লোপেজ হাবাস বনাম মোহনবাগানের পানাজিওটিস দিমপেরিস।

হাবাসের ইস্টবেঙ্গল এই মুহূর্তে আত্মবিশ্বাসের চূড়ান্ত জায়গায়। সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। সেই ম্যাচে ডেভিড লালহলানসাঙ্গা হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ফাইনালের আগে তাই লাল-হলুদ শিবিরকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। হাবাস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, টাইব্রেকারের অপেক্ষায় থাকতে চান না। ৯০ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করার মানসিকতা তাঁর। অর্থাৎ শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে।

মোহনবাগানের সমস্যা অন্য জায়গায়। তারা সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে সহজে জেতেনি; গোলরক্ষক বিশাল কাইথের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। ফলে দিমপেরিস সম্ভবত প্রথম থেকেই ঝুঁকি না নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করবেন। জাতীয় দলের দায়িত্ব শেষ করে অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর সিংহ, আপুইয়া সহ গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলাররা ফিরেছেন। তাঁদের উপস্থিতি মোহনবাগানের মাঝমাঠকে অনেক বেশি ভারসাম্য দিতে পারে। তবে বিশ্রামের অভাবও একটা প্রশ্ন। ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিরুদ্ধে জাতীয় দলের ম্যাচ খেলে সরাসরি ডার্বির ফাইনালে নামা মোটেই সহজ নয়।

এই ম্যাচে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত দ্বৈরথগুলির একটি মিগেল ফিগেইরা বনাম মহম্মদ রশিদ। ফিগেইরা গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল জয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন, এবার সবুজ-মেরুন জার্সিতে। অন্যদিকে রশিদ লাল-হলুদ মাঝমাঠের সৃজনশীল শক্তি। অর্থাৎ দুজনেই একে অপরের ফুটবল সম্পর্কে খুব ভালো জানেন। রশিদকে জায়গা না দিলে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ধার কমতে পারে। আর ফিগেইরাকে সময় দিলে মোহনবাগান শেষ তৃতীয়াংশে বল পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাবে। ফলে মাঝমাঠে প্রথম ২০-২৫ মিনিটের লড়াই খুব গুরুত্বপূর্ণ। মোহনবাগানের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন জেমি ম্যাকলারেনকে নিয়ে। চোটের কারণে তাঁর জায়গায় স্কটিশ লি আরউইনকে শুরু করানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আরউইন ইতিমধ্যেই শিল্ডে তিন ম্যাচে দু’গোল করেছেন। তাঁর বিপরীতে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে ডেভিড জিভুলিচ থাকবেন। শক্তির বিরুদ্ধে শক্তির লড়াই।

মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বিশাল কাইথ। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে তাঁর ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের প্রভসুখন সিংহ গিল জাতীয় দলের ম্যাচ খেলে ফিরেছেন এবং তাঁর ফিটনেস ও বিশ্রামের বিষয়টি নজরে থাকবে।

তবে ফাইনাল কখনও কখনও কাগজের হিসাব বদলে দেয়। একটি দুর্বল মুহূর্ত, একটি সেভ, একটি ভুল সমস্ত প্রিভিউকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। অর্থাৎ আজ যুবভারতীতে লড়াইটা শুধু লাল-হলুদ বনাম সবুজ-মেরুন নয়। লালহলানসাঙ্গার গতি বনাম বাগানের অভিজ্ঞতা, রশিদের সৃজনশীলতা বনাম ফিগেইরার নিয়ন্ত্রণ, কাইথের সেভ বনাম ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ এবং সবশেষে হাবাস বনাম দিমপেরিসের মস্তিষ্ক-যুদ্ধ। শেষের অআগে তাই শেষ কথা বলা সহজ নয়।

 

প্রতিবেদন

Sandipan Saha