ভারত আবার জগত সভায়… ২৫ বছরের সফরে দেশকে এগোনোর বার্তা মোদির
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: ২৫ বছরের পথচলার মাইলফলকে দেশবাসী, বিজেপি, এনডিএ জোট ও সব রাজনৈতিক সহকর্মীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিজের প্রশাসনিক জীবনের কয়েকটি কঠিন ও ঐতিহাসিক অধ্যায় ফিরে দেখে তিনি বললেন, প্রতিটি অধ্যায় তাঁকে নতুন কিছু শিখিয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর কেশুভাই প্যাটেলের উত্তরসূরি হিসেবে গুজরাটের ১৪তম মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন মোদি। বুধবার সেই দিনটিকে বিজেপি ও তাঁর সমর্থকেরা উদযাপন করছিলেন। মোদি দিনটিকে স্মৃতিচারণের বদলে নতুন সংকল্পের দিনে রূপ দিলেন।
প্রধানমন্ত্রী এদিন তাঁর অনুষ্ঠানে বলেন, “যাত্রার এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আমি প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবক ও প্রতিটি সহকর্মীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণাম জানাই। বন্ধুরা, আজ শুধু স্মৃতিচারণের দিন নয়। আজ আমাদের সংকল্পকে নতুন শক্তিতে ভরে নেওয়ার দিন। আজ সেই প্রতিশ্রুতি পুনরাবৃত্তির দিন, সেই অভিপ্রায় প্রকাশের দিন, যা বলে, ‘আমরা করে দেখাব’। আমরা করে দেখাব! আমরা করে দেখাব! আমরা করে দেখাব।”
এদিন প্রধানমন্ত্রী ভারতকে নতুন স্থানে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি জানান, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত উন্নত দেশে পরিণত হবে। বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে ভারত। আত্মনির্ভর ভারতকে আর অন্য কোনও দেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। বিশ্বের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হবে এই দেশেই। ২০৩৬ সালে অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে কিছু কথা এগিয়েছে। অলিম্পিক এই দেশে হলে বিশ্বের কূটনৈতিক স্তরেও অনেকটাই উঠে আসবে ভারত। প্রথমবার মহাকাশে পৌঁছবে ভারতীয়রাও।
ভুজের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতিচারণ করে মোদি বলেন, “এই সংকট আমাকে শেখায় বিপর্যয়ের পর পুনর্নির্মাণের কাজে কীভাবে অবিচল ও দৃঢ় থাকতে হয়।” মহাকাশ অভিযানের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “চন্দ্রযান মিশন আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে ব্যর্থতাকে দূরে সরিয়ে নতুন উদ্যমে পুনরুজ্জীবিত হতে হয়।” কোভিড মহামারীর কথাও তুললেন তিনি। বললেন, “কোভিড পরিস্থিতি আমাকে দেশের গণচেতনা ও সামষ্টিক শক্তির গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করিয়েছে।” দেশের সভ্যতা ও ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, “বেদ থেকে বিবেকানন্দ – যে দেশ হাজার হাজার বছর ধরে মহান চিন্তা চর্চা করে এসেছে এবং মানবজাতির ওপর মানবতার আস্থা ফিরিয়ে এনেছে, এমন এক মহান দেশের সেবা করার সময় আমি একটিবারের জন্যও নিজেকে একা বোধ করিনি।”
