পুজোয় ঘুরে আসতে পারেন কার্শিয়াঙের অফবিট গ্রামে
সুনেত্রা সেনগুপ্ত : উত্তরবঙ্গ মানেই বাঙালির কাছে দার্জিলিং,কালিম্পং,কাশিয়াং এর চেনা পরিবেশ।
তবে এখন কিন্তু মানুষ চেনা ছন্দের বাইরে নিরিবিলি শান্ত পরিবেশই বেশি পছন্দ করে। আর সেই কারণেই ভ্রমণপিপাসু বাঙালি একটু ছুটি পেলেই চেনা ছকের বাইরে একটু নিরিবিলি, শান্ত এবং কোলাহলমুক্ত পরিবেশের খোঁজ করেন। আর তাদের জন্য কার্শিয়াং মহকুমার এক আশ্চর্য লুকনো অফবিট গন্তব্য হতে পারে বাগোরা।সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,১৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি এখনও পর্যটকদের আধুনিক ভিড় আর বাণিজ্যিকীকরণ থেকে অনেকটাই দূরে।
পাইন, ওক আর রডোডেনড্রনের ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই জনপদটি যেন এক টুকরো শান্ত মরুদ্যান। কার্শিয়াং থেকে মাত্র ১৬-১৭ কিলোমিটার দূরে ডাউহিল রোড ধরে এগোলেই দেখা মিলবে এই সবুজঘেরা গ্রামের। বাগোরা গ্রামটি মূলত দার্জিলিং-কার্শিয়াং এর উপরেই অবস্থিত। উঁচু পাহাড়ি ঢালে অবস্থিত হওয়ায় এখান থেকে একদিকে যেমন কালিম্পং, সিকিম ও মিরিক পাহাড়ের একাংশ দেখা যায়, তেমনই নীচের তিস্তা নদীর রূপ এবং ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিও স্পষ্ট নজরে আসে। শিলিগুড়ি, বাগডোগরা বিমানবন্দর কিংবা নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন থেকে বাগোরা পৌঁছানো খুবই সহজ।
স্টেশন বা বিমানবন্দর থেকে গাড়ি ভাড়া করে কার্শিয়াং হয়ে সহজেই বাগোরা পৌঁছানো যায়। এছাড়া হিলকার্ট রোড ধরে যাওয়ার সময় ‘দিলারাম’ নামক ছোট্ট গ্রামটি থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটারের একটি খাড়া পাহাড়ি পথ ধরেও বাগোরায় প্রবেশ করা যায়। এনজেপি থেকে গাড়িতে এখানে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। বর্ষাকাল বাদ দিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত যেকোনো সময়ই বাগোরা ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
বিশেষ করে মার্চ-এপ্রিল যখন চারপাশের রডোডেনড্রন ফুল ফোটে, তখন এই পাহাড়ি গ্রামটি এক রঙিন ক্যানভাসে পরিণত হয়। ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এবং মেঘেদের সাথে এক কাপ গরম চায়ে চুমুক দিতে আগামী উইকেন্ডেই আপনার পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে উত্তরবঙ্গের এই অপরূপ অফবিট ডেস্টিনেশন বাগোরা। এই বাগোরায়া জায়গাটি অফবিট হলেও দেখার জায়গা রয়েছে অনেক।
হাঁটাপথ ও ট্রেকিং করে বাগোরা থেকে ব্রিটিশ আমলের তৈরি ‘ওল্ড কার্ট রোড’ ধরে হেঁটে বেড়ানো এক দারুণ অভিজ্ঞতা। পাইন বনের বুক চিরে চলে যাওয়া কুয়াশাচ্ছন্ন এই রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে শহরের সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়। একটু অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করলে এখান থেকে মংপু পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের একটি জঙ্গল ট্রেকিংও করা সম্ভব।বাগোরা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত চিমনি গ্রাম। ব্রিটিশ আমলে তৈরি ২৩ ফুট উঁচু একটি ঐতিহাসিক চিমনির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পর্যটকরা এ
খানে আসেন, যা আজ ‘চিমনি হেরিটেজ গার্ডেন’ নামে পরিচিত। জিরো পয়েন্ট ও বিমান ঘাঁটি দেখতেও অনেক পর্যটক ভিড় জমান।এছাড়াও পাহাড়ের কোলে পাইন বনে ঘেরা হাসপোখরি দুর্গা মন্দির এই ছোট্ট গ্রামের অন্যতম আকর্ষণ। হাতে ৩ থেকে ৫ দিনের ছুটিতেই অনায়াসে ঘুরে দেখা যেতে পারে বাগোরা গ্রাম।
