ছাত্র বিক্ষোভে একে-৪৭ গর্জে ওঠার জের! অপসারিত সিওয়ানের এসপি পূরণ কুমার ঝা
পাটনা: ছাত্র আন্দোলন সামলাতে একে-৪৭ (AK-47)-এর মতো মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের খেসারত দিতে হলো পুলিশ প্রশাসনকে। বিতর্ক বাড়তেই বিহারের সিওয়ান জেলার পুলিশ সুপার (SP) পূরণ কুমার ঝাকে পদ থেকে সরিয়ে দিল রাজ্য সরকার।
কী ঘটেছিল গত ২৫ জুলাই?
গত ২৫ জুলাই সিওয়ানের জেপি চকে আন্দোলনরত ছাত্রদের সামলাতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কনস্টেবল অভিষেক কুমার তাঁর কাছে থাকা একে-৪৭ রাইফেল থেকে চার রাউন্ড শূন্যে গুলি চালান। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। কনস্টেবলকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে, তবে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এখনও নতুন কোনো পদ দেওয়া হয়নি। এসপি পূরণ কুমার ঝাকেও ওয়েটিং ফর পোস্টে রাখা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে বিহার সরকারের সাফাই
বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে বিহার সরকার তাদের হলফনামায় জানায়, আন্দোলনকারীরা ঘিরে ফেলায় আত্মরক্ষার্থেই শূন্যে ৪ রাউন্ড গুলি চালান ওই কনস্টেবল। রাজ্য সরকারের দাবি— একে-৪৭-এর গুলিতে কেউ আহত হননি। তবে ওই দিন পুলিশের অ্যাকশনে অন্য জায়গায় তিন বিক্ষোভকারী সামান্য আঘাত পেয়েছেন, যা সহকারী উপ-পরিদর্শক নীলেশ কুমার সিংয়ের ৯ মিমি পিস্তলের জোড়া গুলির প্রভাব হতে পারে।
তেজস্বী যাদবের তোপ
ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব প্রশ্ন তুলেছেন— “সাধারণ ছাত্র বিক্ষোভে কনস্টেবলের হাতে কীভাবে একে-৪৭ পৌঁছাল? কোন অস্ত্রাগার থেকে এই অত্যাধুনিক অস্ত্র ইস্যু করার অনুমতি দেওয়া হলো এবং কার নির্দেশেই বা এই সিদ্ধান্ত?” এই ঘটনার নেপথ্যে কমান্ড চেইনের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
