পরিস্থিতি থেকে পালানোর অস্ত্র বাথরুম! আপনার সঙ্গীরও আছে নাকি ‘উইপনাইজড পুপিং’?
ঝগড়া যখন তুঙ্গে, সঙ্গী হঠাৎ বললেন, “একটু বাথরুম থেকে আসছি।” তারপর গায়েব, আর দেখাই নেই। আপনার সঙ্গে কি এরকম পরিস্থিতি হয়েছে? কিংবা চা বানাতে বলতেই বাথরুমে চলে গেলেন সঙ্গী। ততক্ষণে নেশা কেটে গেল, ইচ্ছাও শেষ। অথচ সঙ্গীর বাথরুম থেকে বেরোতেই পারলেন না। এই পরিস্থিতি এখন ঘরে ঘরে। ইন্টারনেটে একটি নতুন শব্দের উৎপত্তি হয়েছে, ‘উইপনাইসড পুপিং’। অর্থাৎ বাথরুম যাওয়ার মতো একদম স্বাভাবিক প্রয়োজনকে হাতিয়ার করে ঘরের কাজ, দায়িত্ব বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে সাময়িক পালিয়ে যাওয়া।
মনোবিদদের একাংশের মতে, এটা সবসময় ইচ্ছে করে হয় না। অনেকে সত্যিই বাথরুমে যান, আর সঙ্গে ফোনটাও চলে আসে। একটা রিল দেখতে গিয়ে আরও পাঁচটা, স্ক্রল করতে করতে ১০ মিনিট কখন ৪০ মিনিটে গিয়ে ঠেকে, খেয়ালই থাকে না। কিন্তু এই দেরি যদি বারবার ঠিক বাসন মাজা, বাচ্চাকে খাওয়ানো, সকালের টিফিন বানানো বা কোনও কঠিন আলোচনার আগেই ঘটে, তাহলে সন্দেহ জাগাই স্বাভাবিক। “একটু বাথরুম থেকে আসছি” এই অজুহাতটা তখন পরিস্থিতি থেকে পালানোর উপায় হয়ে যায়।
লেখিকা ও ডিভোর্স কোচ অলিভিয়া হাওয়েলের একটি লেখা থেকে এই শব্দটা প্রথম উঠে আসে। তাঁর বক্তব্য, সত্যিকারের প্রয়োজনে বাথরুমে যাওয়া, অনেক সময় ঘরের দায়িত্ব এড়ানো হয়ে উঠতে পারে। হাওয়েলের আরও দাবি, এ ক্ষেত্রে অনেক সময় মহিলারাই থাকেন অন্য প্রান্তে। বিশেষ করে মায়েদের কাছে সবসময় ‘অ্যাভেলেবল’ থাকার প্রত্যাশা থাকে। এমনকী খাওয়া, ঘুম বা বাথরুমে যাওয়ার সময়েও।
তবে এর একটা আলাদা পর্যায়ও আছে। জেন-জি-র একাংশ নিজেদের ‘সেফ স্পেস’ বলে মনে করে বাথরুমকেই। কেউ কেউ বাথরুমে একা বসে ফোন দেখেন। কলেজ, পড়াশোনা, অফিসের জটিল সমস্য়ার পর মাথা ঠান্ডা করেন, চারপাশের ব্যস্ততা থেকে সরে আসেন। এই প্রবণতার নাম ‘বাথরুম ক্যাম্পিং’। আবার বাথরুমকে সাজিয়ে নিজস্ব আশ্রয় নেওয়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়। এর নাম ‘টয়লেটস্কেপিং’। নরম সিট কভার, মোলায়েম আলো, রাগ, সবই থাকে এই পর্যায়ে।
কখন সমস্যা
যখন এই বিরতি রোজকার দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল হয়, তখনই তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের আসল সমস্য়া শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা স্বাস্থ্য়ের জন্য় ভাল নয়। এতে মলদ্বারের আশপাশে একটা চাপ আসে এবং হেমোরয়েডও হতে পারে। বাথরুমে একটু শান্তি খুঁজলেও কি তাহলে আপত্তি তোলা হবে? এ তো একজন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে কোথায় থামা উচিত। আপনার একা সময় কাটানো যাতে, আপনার সঙ্গী ও পরিবারের বিরক্তির কারণ না হয়ে যায়। তাহলে আপনি অজান্তেই এই অভ্য়াসকে অস্ত্র বানিয়ে নিজেরই ক্ষতি করবেন।
