যন্তর মন্তরে ফের জমায়েতের চেষ্টা, আটক বিক্ষোভকারীরা; ১০ অক্টোবর দিল্লি চলোর ডাক সিজেপির
নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ফের জড়ো আইসা-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা। শনিবারও কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। গান্ধী জয়ন্তীর দিন, বিক্ষোভ আটকাতে প্রায় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল বলে একাধিক সংবাদ সূত্রের খবর। শনিবারও যন্তর মন্তরে যাওয়ার সব রাস্তায় ব্যারিকেড বসিয়ে ও একাধিক জায়গায় নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়। এর মধ্যেই শুক্রবারের বিক্ষোভ নিয়ে অন্তত তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। অন্য দিকে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বড় সমাবেশ হবে।
শুক্রবার আটকের পরেই আইসার সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা সন্ধ্যায় একটি ভিডিও বার্তায় কর্মীদের শনিবার দুপুর ১টায় ফের জড়ো হওয়ার ডাক দেন। তাঁর বক্তব্য, আটক করে আন্দোলনকারীদের ভয় দেখানো যাবে না। সেই ডাকেই শনিবার যন্তর মন্তরের দিকে জমায়েতের চেষ্টা হয়। ছাত্র-যুবদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন যোগেন্দ্র যাদবও। বিক্ষোভকারীদের দাবি দু’টি: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার SIR বাতিল। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে চরম অনিয়ম হয়েছে।
🚨 Delhi: Protest has begun
Senior advocate Kapil Sibal, Prashant Bhushan and Yogendra Yadav are marching in the protest. pic.twitter.com/pn4qKjUp3n
— Hemant Rajaura (@hemantrajora_) October 3, 2026
শুক্রবারের কর্মসূচিতে অংশ নেন আইসা, এসএফআই, এনএসইউআই, আপ-সহ একাধিক রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের সদস্যেরা। পুলিশ আগেই অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল। মধ্য দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা কড়া করা হয়, বহু রাস্তা ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয়, যন্তর মন্তরের কাছাকাছি কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থানও সাময়িক ভাবে সীমিত রাখা হয়।
পুলিশের হিসাবে সংখ্যাটা ছিল ৫৫০ জনের কাছাকাছি। আয়োজক ও বিরোধী নেতাদের দাবি ৭০০-র বেশি। পিটিআই ও অন্য কয়েকটি সূত্রের খবর অনুযায়ী আটকের সংখ্যা প্রায় ১,০০০।
মধ্য দিল্লিতে মোতায়েন ছিল চার হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী। যন্তর মন্তর এলাকা ভাগ করা হয়েছিল একাধিক জোনে, প্রতিটির দায়িত্বে ছিলেন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক। নজরদারিতে ছিল ড্রোনও। জনপথ রোড, অশোক রোড, টলস্টয় রোড ও পার্লামেন্ট স্ট্রিটের প্রবেশপথ ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা হয়। পার্লামেন্ট স্ট্রিটের রাউন্ডঅ্যাবাউটের কাছে আটকে দেওয়া বিক্ষোভকারীদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় ফতেহপুর বেরি ও বদরপুর থানায়। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
I’m being detained again by the Delhi Police today, along with other protesting students. We have been taken away in police buses. pic.twitter.com/95sP9WSLWZ
— Neha Bora (@NehaAisa) October 3, 2026
আটক হওয়াদের মধ্যে ছিলেন আতিশী, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জয় সিং, কুলদীপ কুমার, জার্নৈল সিং ও সঞ্জীব ঝা (আপ), মনোজ ঝা (আরজেডি), পি সন্দেশ (সিপিআই), নেহা বোরা (আইসা), যোগেন্দ্র যাদব, আইন কর্মী নিখিল দে, যুব কংগ্রেস সভাপতি উদয় ভানু চিব, এনএসইউআই সভাপতি বিনোদ জাখড় এবং ডিওয়াইএফআই সভাপতি এ এ রহিম।
সৌরভ ভরদ্বাজের অভিযোগ, ছ’দিন আগে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আবেদন করা সত্ত্বেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। পরে ফতেহপুর বেরি থানা থেকে পাঠানো ভিডিয়োয় আতিশীর অভিযোগ, আপ নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে “বর্বরতা ও নির্মমতা”র সঙ্গে। পুলিশ অবশ্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
A woman protester is slapped. Her clothes are torn. And even then, Delhi Police doesn’t stop.
They drag her. Throw her into a bus.
This is what’s happening on the streets of Delhi today — all to protect Gyanesh Kumar. pic.twitter.com/YrlAAF4dIR
— Ayush Vishwa (@theayushvishwa) October 3, 2026
শুক্রবারের বিক্ষোভ নিয়ে অন্তত তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। এক পুলিশকর্তা শনিবার জানান, দু’টি মামলা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এবং একটি কনট প্লেস থানায় রুজু হয়েছে। ধারা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ২২৩, যা সরকারি আধিকারিকের জারি করা আদেশ অমান্য সংক্রান্ত। এফআইআরগুলিতে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনকে অভিযুক্ত হিসাবে নাম করা হয়নি। তবে বিক্ষোভের প্রস্তাবক ও অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলির বিবরণ মামলার বয়ানে রয়েছে বলে ওই কর্তা জানান। তাঁর বক্তব্য, নয়াদিল্লি জেলায় ১৬৩ ধারায় জারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
ওই নিষেধাজ্ঞায় লিখিত অনুমতি ছাড়া পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, পিকেটিং, ধরনা, স্লোগান ও বক্তৃতা নিষিদ্ধ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বিক্ষোভের প্রায় তিন ঘণ্টা আগে এই বিধিনিষেধ জনসমক্ষে জানানো হয়েছিল। বিএনএসের ২২৩ ধারায় সাজা ছ’মাস পর্যন্ত জেল, ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুই-ই। আদেশ অমান্যের ফলে মানুষের জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হলে, কিংবা দাঙ্গার আশঙ্কা থাকলে সাজা বেড়ে এক বছর পর্যন্ত জেল ও ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় নিষেধাজ্ঞা ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এফআইআরগুলিতে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান বা অভিযোগের জবাবের বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
Delhi Police very coolly handling the situation.
Protesters at Jantar Mantar Trying to Stop Buses Full of People Detained From Protest Site pic.twitter.com/7t3pbtGegX
— Oxomiya Jiyori 🇮🇳 (@SouleFacts) October 3, 2026
কমিশনের অন্দরেও মতভেদের খবর
বিক্ষোভের মধ্যেই এসআইআর নিয়ে কমিশনের কাজকর্ম খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হয়েছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও আদেশে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ওই আদেশগুলি তাঁদের না জানিয়ে, তাঁদের সুপারিশ ছাড়াই জারি হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনায় ভিন্ন মত ও পর্যবেক্ষণ স্বাভাবিক। তাদের আদেশের পিছনে পূর্ণ আইনি স্বীকৃতি আছে এবং সেগুলি নির্ধারিত বিধি মেনেই জারি হয়েছে।
মুম্বইয়ে সমাবেশ, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ডাক
শুক্রবার মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির সমাবেশে পুলিশি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন বলে খবর। সেখান থেকেই দিল্লিতে নতুন আন্দোলনের ডাক ওঠে।
What could’ve been a better tribute to the Father of the Nation than celebrating the democracy he gave us, in the loudest way possible!
Yesterday, what we witnessed in Mumbai was a powerful reminder that the Nation’s conscience is alive and we are ready to fight to Save… pic.twitter.com/ApmiH48ZMf
— Cockroach Janta Party – CJP (@Cockroachisback) October 3, 2026
শনিবার এক বিবৃতিতে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ ডিপকে জানান, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ১০ অক্টোবর দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ যন্তর মন্তরে জড়ো হবেন। তিনি বলেন, আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, চলতে হবে মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দিল্লির কর্মসূচি “কঠোর ভাবে অহিংস দর্শন” মেনে চলবে এবং ঐতিহাসিক আইন অমান্য আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেবে। সিজেপির বক্তব্য, প্রশাসনিক বাধায় তারা দমবে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাসী প্রতিটি নাগরিককে ১০ অক্টোবর যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডিপকে।
খানে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন। ওই সমাবেশ থেকেই সিইসি পদত্যাগ না করলে দিল্লিতে নতুন আন্দোলনের ডাক ওঠে।
