মিউনিখের অক্টোবর ফেস্টের আলোয় উৎসবের আগমনী
শুভ্রাংশু মুখোপাধ্যায়, মিউনিখ (জার্মানি)
মিউনিখ এমন এক শহর যেখানে শরৎ নামলে শুধু ঋতু বদলায় না, শহরের হৃদস্পন্দনেও যেন উৎসবের সুর বেজে ওঠে। জার্মানির তৃতীয় বৃহত্তম শহর, দক্ষিণ জার্মানির সমৃদ্ধশালী রাজ্য বাভারিয়ার রাজধানী এই মিউনিখ। যে শহরকে তামাম দুনিয়া চেনে BMW, Siemens, Allianz আর FC Bayern Munich–এর জন্য। সেপ্টেম্বর এলেই যেন সেই খুব চেনা শহরটা ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলতে শুরু করে আরও এক ভিন্ন পরিচয়ের জন্য। ‘অক্টোবর ফেস্ট’। বিশ্বের বৃহত্তম Volksfest বা people’s festival।
সাদামাটা বাংলা করলে যার মানে দাঁড়ায় আম জনতার উৎসব। মিউনিখে আমি যেখানে থাকি, সেখান থেকে থেরেসিয়েনউইজ অর্থাৎ ‘অক্টোবর ফেস্ট’–এর সেই বিখ্যাত উৎসব প্রাঙ্গণ U-Bahn মানে পাতাল রেলে মাত্র মিনিট কুড়ির পথ। তাই সেপ্টেম্বর এলেই আমি বেশ বুঝতে পারি যে আমার সারা বছরের রোজনামচার শহরটা ধীরে ধীরে পাল্টাতে শুরু করেছে। দোকানের জানলাগুলো ভরে ওঠে বাভারিয়ান পসরায়। পথেঘাটে চোখে পড়তে শুরু করে ডির্ন্ডল অর্থাৎ জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইৎজারল্যান্ডের আলপাইন অঞ্চলের নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ব্যবহার। পুরুষদের পরনে জায়গা করে নেয় বিশেষ এক ধরণের চামড়ার প্যান্ট। যার পোশাকি নাম লেডারহোসেন। হঠাৎই বেড়ে যায় U–Bahn–এ সওয়ার হয়ে উৎসবের পোশাকে মানুষের আনাগোনা। দিন যত এগোয়, ততই মনে হয় পুরো মিউনিখই যেন তার উৎসবের পোশাক পরে নেয়।
খাতায় কলমে আজ অক্টোবরের প্রথম দিন। কিন্তু ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে অক্টোবর ফেস্ট। গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেরেসিয়েনউইজে এ বছরের উৎসবের দরজা খুলে গেছে। ঘুরতে শুরু করেছে প্রায় আকাশচুম্বী নাগরদোলা বা Ferris wheel। দূর থেকে ভেসে আসছে সুর, শহরের বাতাসে মিশে গেছে এক অন্যরকম অনুভূতি আর আবেগের গন্ধ। যা জানান দিচ্ছে অক্টোবর ফেস্ট এসে গেছে।তবে আমার কাছে অক্টোবর ফেস্ট মানে শুধুই অক্টোবর ফেস্ট নয়। আমার মনে হয়, পুজো আসছে।
২০১৫ থেকে মিউনিখে আছি। প্রথম দিকে অক্টোবর ফেস্ট ছিল আমার কাছে বড়সড় কৌতুহলের বিষয়। মানে দুচোখ ভরে দেখার মতো একটা আন্তর্জাতিক উৎসব। এরপর সময়ের চাকায় গড়িয়ে গেছে ১১ টা বছর। এখন আর এটা আমার কাছে শুধু উৎসবেই সীমাবদ্ধ নেই। ইদানীং সেপ্টেম্বর এলেই মনে হয়, পুজো আসছে। কারণ কলকাতার শরৎ যেমন দুর্গাপুজোর আগমনী বার্তা নিয়ে আসে, মিউনিখের শরৎও আমার কাছে সেই বার্তাই বয়ে আনে। শুধু তার ভাষাটা আলাদা।
কলকাতার শরৎ মানে নীল আকাশ, সাদা মেঘ, কাশফুল, পুজোর গন্ধ, নতুন জামাকাপড় আর অপেক্ষা। মিউনিখে সেই অপেক্ষার শুরুটা যেন থেরেসিয়েনউইজে। দূর থেকে Ferris wheel–এর বিরাট উঁচু মাথা দেখা যায়, জ্বলে ওঠে আলো, বাভারিয়ান মিউজিকের সুর ভেসে আসে। আশ্চর্যের বিষয় হল, শহরের মানুষগুলোও যেন হঠাৎ করেই একটু অন্যরকম হয়ে যায়।
অক্টোবর ফেস্টের গল্পটার শুরু ১৮১০ সালের ১২ অক্টোবর। বাভারিয়ার যুবরাজ লুডভিগের সঙ্গে বিয়ে হয় সাক্সেন–হিল্ডবুর্গহাউজেনের রাজকুমারী থেরেসার। পাঁচদিন পর অর্থাৎ ১৭ অক্টোবর তাঁদের বিবাহ–উদ্যাপনের অংশ হিসেবে মিউনিখের বাইরে এক বিশাল ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করা হয়। সেই ঘোড়দৌড়ই পরবর্তীকালে অক্টোবরফেস্টের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করে। রাজকুমারী থেরেসার নাম অনুসারেই এই মাঠের নাম হয় থেরেসিয়েনউইজ। আজও মিউনিখের মানুষ আদর করে অক্টোবরফেস্টকে বলে Wiesn। যার আভিধানিক অর্থ ঘাসজমি। এরপর ১৮১৯ সালে অক্টোবর ফেস্টকে বাৎসরিক উৎসবের মর্যাদা দেওয়া হয়। পরে ১৮৭২ সাল থেকে আবহাওয়ার কারণে উৎসবের সূচনা পর্ব সেপ্টেম্বরে এগিয়ে আনা হয়। তাই আজকের অক্টোবর ফেস্ট আসলে সেপ্টেম্বরের উৎসব। এবারের উৎসব চলবে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত— মোট ১৬ দিন।
কলকাতায় পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই পাড়ায় পাড়ায় বাঁশ পড়ে। ধীরে ধীরে কাঠামো তৈরি হয়, কাপড় লাগানো হয়, আলোর সাজ বসানো হয়। যত দিন এগোয়, ততই বোঝা যায় পুজো সত্যিই এসে যাচ্ছে। মিউনিখে অক্টোবর ফেস্টের প্রস্তুতিও আমাকে সেই একই অনুভূতি দেয়। এবারের অক্টোবর ফেস্টের বিশাল প্যান্ডেলের তোড়জোড়, খাদ্য পানীয়ের আয়োজনের তৎপরতা শুরু হয়েছিল ২৯ জুন থেকে। মানে উৎসব শুরুর ঠিক ৮২ দিন আগে। তারপর ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে ছোট তাঁবু, হরেক খাবারের স্টল, দোকানদানি আর এসে পড়েছে নানা ধরনের রাইড। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই থেরেসিয়েনউইজ যেন একটা অস্থায়ী শহরে রূপ নিয়েছে। এবারের উৎসবে রয়েছে ১৭টা বড় প্যান্ডেল এবং ২১টা ছোট তাঁবু।
কলকাতায় যেমন প্রত্যেক পুজোর প্যান্ডেলের একটা নিজস্বতা থাকে, এখানেও প্রত্যেক প্যান্ডেলের রয়েছে একটা নিজস্ব চরিত্র। কোথাও উঠে এসেছে ঐতিহ্যবাহী বাভেরিয়ান পরিবেশের ঝলক, কোথাও বড় ব্যান্ড, আবার কোথাও কোথাও নিখাদ ‘ফ্যামিলি ক্রাউড’। সব মিলিয়ে একটা বিশাল উৎসবমুখর পরিবেশ।
এই বিশালতাই বোঝায় কেন অক্টোবর ফেস্টকে বিশ্বের বৃহত্তম ‘Volksfest’ বা গণউৎসব বলা হয়। একটা পরিসংখ্যান দিলে বিষয়টা স্পষ্ট হবে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই প্রায় ৬৫ লক্ষ মানুষ থেরেসিয়েনউইজে এসেছিলেন অক্টোবর ফেস্টে সামিল হতে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক সপ্তাহের এই উৎসবে এত সংখ্যক মানুষ জড়ো হন, যা বহু দেশের কোনও বড় শহরের জনসংখ্যার সঙ্গেও তুলনা করা যায়। একদিকে বিশাল উৎসবের মাঠ, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ মানুষের অবিরাম যাতায়াত— সব মিলিয়ে এই উৎসব যেন কয়েক সপ্তাহের জন্য মিউনিখের মধ্যে আরেকটি শহর তৈরি করে দেয়।
অক্টোবর ফেস্টের আর একটা বিষয় আমাকে বড্ড অবাক করে। সেটা হল পৃথিবীর যে কোনও বিয়ার প্রস্ততকারী সংস্থাই কিন্তু অক্টোবর ফেস্টে এসে তাদের সংস্থার পানীয় পরিবেশন করতে পারে না। এই উৎসবে অক্টোবর ফেস্ট বিয়ার পরিবেশনের অধিকার রয়েছে কেমলমাত্র মিউনিখের ছয়টি ঐতিহ্যবাহী বিয়ার প্রস্তুতকারী সংস্থার। সেগুলি হল Augustiner, Hacker-Pschorr, Hofbräu, Löwenbräu, Paulaner এবং Spaten। এই ছয়টি নাম শুধু বিয়ারের ব্র্যান্ড নয়, মিউনিখের দীর্ঘ পানীয় তৈরির ঐতিহ্যেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। চলতি বছর এক লিটার Maß beer–এর দাম €14.80 থেকে €15.90। অর্থাৎ কলকাতার পুজোর সময় যেমন বন্ধুবান্ধবের মধ্যে আলোচনা হয়, কোন রেস্তোরাঁয় কী নতুন এসেছে, কোথায় খাওয়া হবে? এখানেও অক্টোবর ফেস্টের সময় আলোচনার বিষয় হয়ে যায় কোন তাঁবুতে কী পাওয়া যাচ্ছে? কোথায় বিয়ারের দাম কত, কোথাকার খাবার কেমন।
কোনও কোনও বছর এমনও হয়েছে যে, সেপ্টেম্বর দরজায় কড়া নাড়ছে। অথচ কাজের ব্যস্ততায় খেয়ালই করা হয়নি।
একদিন অফিসে গিয়ে দেখি উপস্থিতি বেশ কম। আর যারা এসেছে, তাদের কারও পরনে লেডারহোসেন, আবার কোনও সহকর্মীর গায়ে ডির্ন্ডল। তখনই মনে পড়ে যায়, আরে! অক্টোবর ফেস্ট তো পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে! সহকর্মীদের পোশাক দেখে আরও একটা বিষয় বোঝা যায়। সেটা হল, সে বছর ডির্ন্ডল আর লেডারহোসেনের স্টাইলে কী নতুন ট্রেন্ড এলো। এটা আমাকে কলকাতার পুজোর কথা মনে করিয়ে দেয়। পুজোর আগে কলকাতায় যেমন নতুন শাড়ি, পাঞ্জাবি, কুর্তা বা ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়ে আলোচনা হয়, এখানেও অক্টোবর ফেস্টের সময় পোশাক নিয়ে সেই একইরকম একটা উদ্দীপনা থাকে।
মিউনিখে কাজ করতে করতে দেখেছি, এখানকার বহু সংস্থা তাদের কর্মীদের সঙ্গে অক্টোবর ফেস্ট উদ্যাপন করে। অনেক সংস্থা আগে থেকেই কোনও প্যান্ডেলে টেবিল বুক করে রাখে এবং কর্মচারীদের জন্য বিয়ার ও খাবারের ব্যবস্থা করে। অফিসের সহকর্মীরা কাজের বাইরে একসঙ্গে বসে খাবর খান, গল্প করেন, গান শোনেন। অফিসের দলগত আনন্দ উদযাপনও তখন যেন Wiesn–এর অংশ হয়ে যায়। আর লাঞ্চ? তাও ঢুকে পড়ে ফেস্টের মাঠে। কোন তাঁবুতে বিয়ারের দাম কত, কোন তাঁবুতে Hendl বা মুরগির মাংস ভালো, কোন তাঁবুতে বিশেষ কী পাওয়া যাচ্ছে —এইসব নিয়ে আলোচনা চলে। এ যেন কলকাতার দুর্গাপুজোরই মিউনিখ সংস্করণ
! অফিস তখন আর শুধু অফিস থাকে না। সেটা হয়ে ওঠে মিউনিখের নিজস্ব ‘পুজোর আড্ডা’।
তবে আমার অক্টোবর ফেস্টের গল্পটা অবশ্য একটু অন্যরকম। আমি বিয়ার বঞ্চিত। তাই এই উৎসবের বিয়ার আমায় টানে না। আমার ভালো লাগে এই উৎসবের পরিবেশ, আলো, গান, মানুষের ভিড়, বাভারিয়ান পোশাক আর অবশ্যই হরেক রকমের রাইডস। ছোটবেলায় কলকাতার নিক্কো পার্কে আমার সবচেয়ে পছন্দের রাইড গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল Dodgems বা Striking Cars। সেই গাড়িগুলোর স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে একে অপরকে ধাক্কা দেওয়ার আনন্দটা আজও নাড়া দেয়। অক্টোবর ফেস্টের রাইডগুলোয় চাপলে সেই ছোটবেলার দিনগুলো যেন আচমকাই সামনে এসে দাঁড়ায়। কয়েক মুহূর্তের জন্য বয়সটা যেন হুশ করে এত্তোটুকু হয়ে যায়। চারপাশের বিশাল উৎসব, আলো, সুর— সবকিছু মিলিয়ে আমি আবার সেই ছোট্ট ছেলেটা হয়ে যাই। পার্থক্য শুধু একটাই। তখন পাশে থাকত বাবা–মা। আর এখন স্ত্রী। ঠিক তখনই মনে হয়— ‘চল, উঠি!’ তারপর দু’জনে উঠে বসি কোনও একটা রাইডে! ।
অক্টোবর ফেস্টের আসল নায়ক সাধারণ মানুষ। এ এমন এক উৎসব, যেখানে আন্তর্জাতিক সেলিব্রিটিরাও আসেন, আবার পাশের বাড়ির ছাপোষা মানুষও একই ভিড়ে মিশে যান।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর হলিউড অভিনেতা ও বডিবিল্ডার আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার উৎসবের অন্যতম বড় তাঁবু মারস্টাল টেন্টে এসে ব্যান্ডের সঙ্গে অনুষ্ঠান করেছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন। কিন্তু অক্টোবর ফেস্টের আসল আকর্ষণ কিন্তু কোনও সেলিব্রিটি নয়। আসল অক্টোবর ফেস্ট তৈরি হয় সাধারণ মানুষের ভিড়, হাসি, গান, খাবার, রাইড আর একসঙ্গে আনন্দ করার মধ্যে। এটাই সম্ভবত এই উৎসবের সবচেয়ে সুন্দর দিক। মিউনিখ এমনিতে বেশ শান্ত, নিয়ন্ত্রিত, নিজের ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যে বেঁচে থাকা একটা শহর। সবসময়ই মানুষ নিজের কাজে ব্যস্ত, রাস্তায় খুব বেশি হইচই নেই। শুধু অক্টোবরফেস্ট এলেই সেই মিউনিখই যেন নিজের অন্য একটা রূপ বের করে আনে। শহরটা এই কয়েক সপ্তাহের জন্য অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আর সেই দৃশ্য দেখতে দেখতে আমার মনে পড়ে কলকাতার পুজোর দিনগুলো। থেরেসিয়েনউইজের রাইডস মনে করিয়ে দেয় পাড়ার পুজোর কার্নিভ্যাল। বাভেরিয়ান brass band–এর মিউজিকের মধ্যে যেন শুনতে পাই ঢাকের আওয়াজ। ডির্ন্ডল আর লেডারহোসেনের ভিড় মনে করিয়ে দেয় পুজোর নতুন শাড়ি–পাঞ্জাবির কথা। লাঞ্চ ব্রেকে বিয়ার আর মুরগির মাংসের আলোচনা মনে পড়ায় কলকাতার রেস্তোঁরায় পুজো স্পেশাল মেনু নিয়ে আড্ডা। দুটি উৎসবের ভাষা আলাদা। সংস্কৃতিও আলাদা। কিন্তু মানুষের আনন্দের অভ্যাসটা আশ্চর্যভাবে এক।
আমার শরতের আগমনী এখন মিউনিখে অক্টোবর ফেস্ট শুরু হলেই। আমার শরৎ শুরু হয় থেরেসিয়েনউইজ থেকে।আলো জ্বলে উঠেছে। Ferris wheel ঘুরছে। ব্রাস ব্যান্ড বাজছে। রাস্তায় ডির্ন্ডল আর লেডারহোসেন দেখা যাচ্ছে। U Bahn– এ উৎসবমুখী মানুষের ভিড়...। আর আমি জানি, ওপারে, অনেক দূরে, কলকাতাও এখন অন্য এক প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। পাড়ার প্যান্ডেলে বাঁশ বাঁধা হচ্ছে। প্রতিমার গায়ে পড়ছে রংয়ের পোঁচ। ঢাকিরা হয়তো এখন রোদ পিঠ করে ঢাকের চামড়া ঠিক করছেন। জোর কদমে শুরু হয়ে গেছে শপিং। আমার কাছে তাই অক্টোবর ফেস্ট শুধু মিউনিখের একটা বড় উৎসব নয়। এ আমার প্রবাসী শরতের আগমনী।
