বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

কেন দেবীর নাম দুর্গা? স্কন্দ পুরাণে আছে এক সহস্রভূজা দেবীর উল্লেখ

01 October, 2026 2:10 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

বাঙালির কাছে পুজো মানে শুধু উৎসব নয়, একটা আবেগ। আকাশে কাশফুল দুলতে শুরু করলেই বুঝে যাই, মা আসছেন। ষষ্ঠী এলেই ঢাকে কাঠি পড়ে, আর মনটা এক নিমেষে ছোটবেলায় ফিরে যায়। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখা, ভোগের লাইন, নতুন জামা, আড্ডা আর অষ্টমীর অঞ্জলি। তারপর দশমীর সিঁদুর খেলা, আর সঙ্গে এক বুক ভারী মনখারাপ। পুরাণে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে দেবী দুর্গাকে? কেন তাঁর নাম দুর্গা? চলুন আজ দেখে নেওয়া যাক স্কন্দ পুরাণে মা দুর্গাকে নিয়ে কী লেখা আছে।

স্কন্দপুরাণ: দুর্গ অসুরের গল্প

ঋষি অগস্ত্য একবার কার্তিকেয়কে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার মায়ের নাম দুর্গা কেন?” কার্তিকেয় তখন এই গল্পটা শোনালেন।

রুরু দৈত্যের ছেলে ছিল দুর্গ। ব্রহ্মার বর পেতে সে কঠোর তপস্যা করে, আর বর পেয়ে হয়ে ওঠে দুর্জয়। ত্রিভুবন জিতে সে ইন্দ্রকে সিংহাসন থেকে নামিয়ে দিল। মুনিঋষিদের জোর করে তার জয়গান গাওয়াতে লাগল, দেবতাদের পাঠিয়ে দিল বনে, আর সব ধর্মানুষ্ঠান বন্ধ করে দিল। তার ভয়ে ব্রাহ্মণরা বেদপাঠ ছাড়লেন, নদী পথ বদলাল, আগুন তেজ হারাল, আর নক্ষত্ররা লুকিয়ে পড়ল। এমনকি ভয় পেয়ে পৃথিবী ঋতুর নিয়ম ভুলে অতিরিক্ত শস্য ফলাতে লাগলেন।

দুঃখী দেবতারা গেলেন শিবের কাছে। ইন্দ্র বললেন, “সে আমাকে সিংহাসনচ্যুত করেছে!” সূর্য বললেন, “সে আমার রাজ্য কেড়ে নিয়েছে!” শিবের দয়া হল। তিনি পার্বতীকে অনুরোধ করলেন দৈত্যটিকে বধ করতে। পার্বতী হাসিমুখে রাজি হলেন।

প্রথমে তিনি পাঠালেন কালরাত্রিকে। কালরাত্রির রূপে ত্রিভুবন মুগ্ধ হল। তিনি দৈত্যদের আদেশ দিলেন পৃথিবীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে। শুনে দুর্গ ক্ষেপে গিয়ে সেনা পাঠাল, কিন্তু কালরাত্রি এক নিঃশ্বাসেই তাদের ছাই করে দিলেন। এরপর দুর্গ পাঠাল ৩০,০০০ দৈত্য, যাদের শরীরে পৃথিবীর মাটিই ঢেকে গেল। কালরাত্রি ভয় পেয়ে ছুটে এলেন পার্বতীর কাছে।

এবার দুর্গ নিজে এল অগণিত রথ, হাতি, ঘোড়া আর সৈন্য নিয়ে, বিন্ধ্যপর্বতে। তাকে দেখেই পার্বতী সহস্রভুজা মূর্তি ধরলেন। উপদেবতাদের নিয়ে নিজের বাহিনী গড়লেন, আর নিজের শরীর থেকে সৃষ্টি করলেন অজস্র অস্ত্র। দৈত্যরা ঝড়ের মতো তির ছুঁড়ল, গাছ-পাথর উপড়ে ছুঁড়ে মারল। দেবী একটিমাত্র অস্ত্রে সব ঠেকিয়ে দিলেন। দুর্গ আগুনের গোলা ছুঁড়ল, দেবী তা সরিয়ে দিলেন। দুর্গ তির, গদা, শূল ছুঁড়ল, দেবী সবই থামিয়ে দিলেন।

তারপর দেবী আর দৈত্য মুখোমুখি। পার্বতী দুর্গকে ধরে তার বুকে বাঁ পা চেপে দিলেন। দুর্গ কোনও মতে ছাড়া পেয়ে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ল। দেবী নিজের শরীর থেকে আরও অনেক দেবী সৃষ্টি করলেন, তাঁরা অসুর সৈন্যদের বধ করতে লাগলেন। দুর্গ তখন শিলাবৃষ্টি নামাল, দেবী এক অস্ত্রেই তা আটকে দিলেন। দুর্গ পাহাড়ের মতো হাতি হয়ে আক্রমণ করল, দেবী তার পা বেঁধে নখের আঘাতে ছিন্নভিন্ন করলেন। দুর্গ মহিষ হয়ে ছুটে এল, শিং দিয়ে পাহাড় উপড়ে ফেলল, দেবী ত্রিশূলে তাকে টুকরো করলেন। শেষে সে নিজের রূপে ফিরে হাজার হাতে হাজার অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করল।

পার্বতী তাকে তুলে আছড়ে ফেললেন মাটিতে। তাতেও না মরায় তির মেরে তার বুক বিদীর্ণ করলেন। নদীর ধারার মতো রক্ত উঠে এল দুর্গের মুখ দিয়ে, আর সে মারা গেল। দেবতারা মহানন্দে ফিরে পেলেন তাঁদের হারানো গৌরব। এই দুর্গ অসুরকে বধ করেই দেবী পরিচিত হলেন দুর্গা নামে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC