গঙ্গার ভাঙনে বাড়িঘর ভেসেছে , এক সপ্তাহ ত্রিপলই সম্বল বাসিন্দাদের, ক্ষোভ প্রশাসনের বিরুদ্ধে
সংবাদদাতা, নদীয়া: ভিটেমাটি, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে জীবনের সমস্ত সঞ্চয়—নিমেষে গিলে খেয়েছে নদী। এখন ভরসা শুধুই এক চিলতে ত্রিপল আর খোলা আকাশ। নদীয়ার শান্তিপুর বিধানসভার অন্তর্গত গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর এলাকায় গঙ্গা ভাঙনের জেরে গৃহহীন হয়ে পড়েছে একাধিক পরিবার। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে খোলা আকাশের নিচে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দুর্গতরা। কিন্তু আক্ষেপের বিষয়, এত বড় বিপর্যয়ের পরও কোনও নেতা বা প্রশাসনিক কর্তার দেখা পাওয়া যায়নি।
দিনকয়েক আগে গভীর রাতের অন্ধকারে শান্তিপুরের শ্রীরামপুরে আচমকাই তীব্র রূপ নেয় গঙ্গা ভাঙন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জলের তলায় তলিয়ে যায় ১০ থেকে ১২টি বাড়ি। ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র, পোশাক, টাকা-পয়সা সরিয়ে নেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ পাননি বাসিন্দারা। পরনের পোশাকটুকু সম্বল করে কোনও ক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে ডাঙায় ওঠেন তারা। বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও সরকারি সাহায্য বলতে মিলেছে কেবল একটি করে ছোট ত্রিপল এবং সামান্য চাল-ডাল। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের এই মানুষগুলোর কাছে এখন দিনও যেন অমাবস্যার অন্ধকার। স্থানীয় সহৃদয় মানুষজন প্রতিদিন যেটুকু সাহায্য করছেন, তা দিয়েই কোনও মতে পেটের খিদে মিটছে।
সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতি ছোট ছোট শিশুদের। মাথা গোঁজার অন্য জায়গা নেই। একই ত্রিপলের নিচে গবাদি পশুদের সঙ্গে শিশুরাও রয়েছে। গরু-ছাগলের পাশে গাদাগাদি করে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছে পরিবারের শিশু ও মহিলারা। দুর্গত বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেতাদের ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ভোটের সময় যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা আসেন, তাঁরা আজ কোথায়? হাতজোড় করে ভোট চাওয়ার দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায়। কিন্তু বিপদের দিনে সেই জনপ্রতিনিধিরা পাশে নেই। শ্রীরামপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, এই দৃশ্য শুধু মর্মান্তিক নয়, চরম লজ্জারও।
