গঙ্গার গ্রাসে সাহেবগঞ্জের রেললাইন, মালদহ ডিভিশনে বিপর্যয়, ভোগান্তি নিত্য়যাত্রীদের
সংবাদদাতা,মালদহ: গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে বিপর্যস্ত পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশন। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার সাকরিগলি এবং মহারাজপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে রেললাইনের নীচের মাটি ও বোল্ডার ধসে পড়েছে। ফলে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি ওই ট্র্যাকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গঙ্গার এই তাণ্ডবে বিহার ও ঝাড়খণ্ডগামী রেল পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গসহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির ট্রেন চলাচলেও।
রেল সূত্রে খবর, টানা বৃষ্টির জেরে গঙ্গায় জলস্তর বাড়ায় সাকরিগলি ও মহারাজপুরের মাঝে নদীর তীরবর্তী অংশে মারাত্মক ভাঙন শুরু হয়। জল ও মাটির টানে রেললাইনের নীচের ভিত আলগা হয়ে বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিরাপত্তার খাতিরে রেল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি ওই অংশে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ করার পর ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালদা ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। লাইন মেরামতি এবং ট্র্যাকে নতুন করে বোল্ডার ও মাটি ফেলে ভিত শক্ত করার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার জেরে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। মালদহ ডিভিশনের তরফে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে ভাগলপুর বা অন্ডাল হয়ে পাস করা হচ্ছে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়েছেন শত শত দূরপাল্লার যাত্রী। বিহার ও ঝাড়খণ্ডগামী দিনমজুর, ব্যবসায়ী এবং নিত্যযাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। টিকিট কাউন্টারগুলিতে রিফান্ড ও বিকল্প যাত্রাপথের খোঁজে লম্বা লাইন চোখে পড়ছে।
মালদহ ডিভিশনের এক সিনিয়র রেল আধিকারিক জানিয়েছেন, যাত্রীদের সুরক্ষাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। গঙ্গার ভাঙনে ট্র্যাকে যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামতের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করার সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। আপাতত বেশ কিছু স্পেশাল বাস পরিষেবা ও হেল্পডেস্ক খুলে পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে রেল প্রশাসন। তবে গঙ্গার ভাঙন না কমলে পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
