ছড়িয়ে ময়লা, দুর্গন্ধ, শিলিগুড়িতে সাফাই কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: স্থায়ী চাকরি এবং পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি চালাচ্ছে শিলিগুড়ি পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা। উত্তরবঙ্গ সাফাই কর্মচারী কল্যাণ সংগঠনের এই আন্দোলন দ্বিতীয় দিন শিলিগুড়ির রাজপথে নেমে এক সুবিশাল প্রতিবাদ মিছিল করেন কয়েকশো সাফাই কর্মী। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ও আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না। মঙ্গলবার সকালে বাঘাযতীন পার্কে জমায়েত হন উত্তরবঙ্গ সাফাই কর্মচারী কল্যাণ সংগঠনের সদস্যরা। সেখান থেকেই তাঁদের প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়।
আন্দোলনকারী কর্মীদের বহুদিনের ক্ষোভ। তাঁদের প্রধান অভিযোগ—বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও তাঁদের স্থায়ী করা হয়নি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাজের দায়িত্ব ও সময়সীমা বহুগুণ বাড়লেও সেই তুলনায় পারিশ্রমিক বাড়েনি। এক আন্দোলনকারী কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুর্গোৎসব, ছটপুজো, ঈদ থেকে শুরু করে যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে বা জাতীয় ছুটির দিনেও তাঁদের কাজ যেতে হয়। অথচ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পর্যাপ্ত ছুটি পাওয়া যায় না। কিংবা উৎসবের বিশেষ ভাতা। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের এই কর্মীদের। সংগঠনের তরফে বলা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, ওষুধ ও শিক্ষার খরচ যেভাবে আকাশছোঁয়া হয়েছে, তার সঙ্গে বছরের পর বছর অপরিবর্তিত থাকা বেতনের চরম অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
উত্তরবঙ্গ সাফাই কর্মচারী কল্যাণ সংগঠনের নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘকাল ধরে অস্থায়ী হিসেবে কর্মরত কর্মীদের দ্রুত স্থায়ীকরণ করতে হবে এবং বর্তমান বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে সম্মানজনক বেতন পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না। আগামী দিনে আরও জোরদার ও ব্যাপক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এদিকে, টানা দু’দিন ধরে সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতির ফলে শিলিগুড়ি শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য পুর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।
