নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের উপনির্বাচনী প্রচার গাড়িতে হামলা দুষ্কৃতীদের, উত্তেজনা
সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম: আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথম থেকেই উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম। এরই মধ্যে সোমবার কলকাতা থেকে যাওয়া প্রদেশ কংগ্রেসের একটি নির্বাচনী প্রচার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এদিন সকালে প্রদেশ কংগ্রেসের একটি হুডখোলা প্রচার ট্যাবলো গাড়ি প্রচার চলাকালীন নন্দীগ্রামের ইন্দিরা মোড় সংলগ্ন এলাকায় এসে পৌঁছায়। গাড়িটি ইন্দিরা মোড় এলাকায় প্রবেশ করতেই আচমকা একদল দুষ্কৃতী সেটিকে লক্ষ্য করে ইট ও পাথর ছুড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ইটের বৃষ্টিতে ট্যাবলো গাড়িটির কাচ ভেঙে যায়। আকস্মিক এই হামলায় প্রচার দলের কর্মী ও চালকের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রেস বিবৃতি জারি করে এই হামলার জন্য সরাসরি স্থানীয় বিজেপিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তাদের মনোনীত প্রার্থী মিলন প্রধানের সমর্থনে সাধারণ মানুষের ব্যাপক জনজোয়ার তৈরি হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়েই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, এই হামলার সঙ্গে তাদের দলের কোনও কর্মী বা সমর্থকের সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং বিজেপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই কংগ্রেস মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম বিধানসভার আসন্ন উপনির্বাচন ঘিরে বেশ কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক পারদ ঊর্ধ্বমুখী। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত বাধ্য হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন ঘোষণা করায়। তাই এই নির্বাচন মূলত কংগ্রেস বনাম বিজেপির মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। কিন্তু ভোটের আগেই কংগ্রেস প্রার্থীর পুরনো মামলায় আচমকা গ্রেপ্তারি, অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলা। তার ওপর আজকের এই হামলার ঘটনায় নির্বাচনের আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য ইন্দিরা মোড় ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
