ফের ২ নাগা নিহত মণিপুরে, অভিযোগের তির কুকিদের দিকে
ইম্ফল: উত্তপ্ত মণিপুরে। আবারও প্রাণ গেল নাগা সম্প্রদায়ের ৩ ব্যক্তির। গুরুতর জখম আরও ২। জানা গেছে, কালেঞ্জাং গ্রামের প্রধানের বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি আচমকাই হামলা চালায়। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তাদের ছোড়া গুলিতেই মারা যান ২ জন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা সেনাপতি জেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে ২ জনের নাম রকি মাও ও কুমার পউমাই। অন্যদিকে জখম আদানি মানিও এবং আশিহো সানিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। যদিও কেন হঠাৎই এই আক্রমণ, সেই বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনা নিয়ে মুখ না খুললেও স্থানীয়দের দাবি, এই হামলার পেছেনে কুকি উপজাতির সদস্যদের হাত রয়েছে। স্থানীয় স্তরে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও পক্ষকে দায়ী করা হয়নি। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং হামলার ঘটনার নিন্দে করে বলেছেন, ‘নিরীহ মানুষের প্রাণনাশের ঘটনা কাপুরুষতার নিদর্শন।’ ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে মারামে ডন বসকো কলেজের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মাত্র কয়েকদিন আগেই ভারত–মায়ানমার সীমান্ত এলাকা কামজং জেলায় আরও একটি হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ৪ জনের। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই নাগা জনজাতির ৭ ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে পাহাড়ি জেলাগুলির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, বারবার হামলার পরেও মণিপুরের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে? নাগা উপজাতির মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। বিরোধী শিবির থেকেও রাজ্য সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
পরপর এরকম ঘটনায় আতঙ্ক প্রকাশ করেছিল নাগা সামাজিক সংগঠনগুলি। এদিকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার পর শনিবারই চারমাসের অর্থনৈতিক হরতাল সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল। সেই আবহে ফের রক্তপাত মণিপুরে শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়াকেও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। উল্লেখ্য, বহুদিন ধরেই নাগা ও কুকি— এই দুই উপজাতির সংঘাত মণিপুরে প্রধান সমস্যা।
