মার্কিন হল অফ ফেমে বাংলার নিসর্গ
সংবাদদাতা, ধুপগুড়ি: সিবিএসই–র অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতির ত্রুটি খুঁজে বের খবরে উঠে এসেছিলেন নিসর্গ অধিকারী। সেই অসাধ্য সাধন করা স্বীকৃতিস্বরূপ দ্বাদশের পরীক্ষায় পাশ করার পরই চাকরি পেয়েছিলেন আইআইটি কানপুরে। সেখানকার সাইবার সিকিওরিটি ইনোভেশন ক্লাব নিসর্গকে তাঁদের ওপেন সোর্স ইনটেলিজেন্স ও থ্রেট ইনটেলিজেন্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ করে। দ্বাদশের গণ্ডি পেরোনো কারোর ক্ষেত্রে যা এককথায় নজিরবিহীন। বর্তমানে কানপুর আইআইটি–তে ফ্রিল্যান্সার এবং চুক্তিভিত্তিক কিছু প্রকল্পে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেছেন তিনি।
এবার নিসর্গের সাফল্যর মুকুটে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। মার্কিন বিচারবিভাগের নিরাপত্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি খুঁজে বের করে ১৯ বছরের এই তরুণ জায়গা করে নিলেন মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের (ডিওজে) হল অফ ফেম–এ। ডিওজে–র দেওয়া স্বীকৃতির স্ক্রিনশট নিসর্গ শেয়ার করেছেন এক্স হ্যান্ডলে।
আরও পড়ুন: দাপাচ্ছে ‘অর্ণব’, বঙ্গে চলছে নাগাড়ে বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া
নিসর্গ জানিয়েছেন, নিজের তৈরি বিশেষ কিছু স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে প্রথমে ওই ত্রুটি খুঁজে বের করেন তিনি। তারপর সেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেন ডিওজে–র দপ্তরে। ত্রুটি–সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠানোর সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই মার্কিন বিচারবিভাগ সেই সমস্যা শুধরে নেয়। তারপরই নিসর্গের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে হল অফ ফেম–এর তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, যে সব সাইবার গবেষক যথার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন, তাঁদের সকলেরই নাম হল অফ ফেম–এ রয়েছে। নিসর্গ জানিয়েছেন, এছাড়াও মার্কিন মিলিটারি সিস্টেমের একটি নিরাপত্তা ত্রুটিও শনাক্ত করে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তিনি।
ধূপগুড়ির ছেলে নিসর্গের লেখাপড়া ধুপগুড়ি হাই স্কুলেই। ৬ বছর বয়স থেকেই কোডিং শেখা শুরু হয়েছিল তাঁর। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সাইবার সুরক্ষা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী নিসর্গ তার দ্বাদশের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন কী ভাবে সিবিএসই–র পোর্টালের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর পেতেই সেই পোর্টাল হ্যাক করার চেষ্টা করেন তিনি। তখনই ধরা পড়ে পোর্টালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী কী ত্রুটি রয়েছে। সেই বিষয়ে নিজের ব্লগে বিস্তারিত জানান নিসর্গ। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিএসই এবং লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে ডেকে পাঠানো হয়।
