প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত ২
সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না । বুধবার ভোরে মর্মান্তিক এই পথ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির জেলার ওদলাবাড়ির ফ্লাইওভার সংলগ্ন ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের চেল সেতু এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই গৃহবধূর নাম দীপমালা থাপা এবং সুমা দেবী প্রসাদ। বাড়ি ওদলাবাড়ির দেবীপাড়া এলাকায়। প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও দু’জনে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। ওদলাবাড়ি বাজারের দিক থেকে রওনা হয়ে চেল সেতু পেরিয়ে ফ্লাইওভার পর্যন্ত হেঁটে আবার বাড়ির পথ ধরেছিলেন। কিন্তু সেই সময় পিছন দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা সিকিমের নম্বরযুক্ত একটি সাদা রঙের ইনোভা গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে দু’জনকে। তাঁরা মূল রাস্তা থেকে কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েন।
বিকট শব্দে বাসিন্দা ও পথচারীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সুমা দেবী প্রসাদ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দীপমালাকে ওদলাবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সঞ্জয় পাল জানান, “দুই মহিলা রাস্তার ধার ঘেঁষে হাঁটছিলেন। পিছন দিক থেকে আসা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি তাঁদের ওপর উঠে যায়। গতিবেগ দেখে মনে হচ্ছিল চালক হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। অপর বাসিন্দা মহম্মদ জব্বার আলি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের এই অংশে গাড়ির গতিসীমায় কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে মাঝমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে স্পিড ব্রেকার, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত নজরদারির দাবি জানানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মালবাজার থানার পুলিশ এবং মাল থানার ট্রাফিক ওসি হোমেশ্বর পাল। পুলিশ ঘাতক ইনোভা গাড়িসহ চালককে আটক করেছে। চালক মত্ত ছিলেন নাকি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
