দুই কমিশনারের অভিযোগে বিদ্ধ জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশনে ‘কোন্দল’ প্রকাশ্যে
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলে শুরু হয়েছে গণ্ডগোল। দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশির অভিযোগের তির দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দিকে। তাঁদের দাবি, কমিশনের অন্যদের অন্ধকারে রেখে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একাই নিয়ে নিচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার! ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’–এর অন্তর্তদন্তে সামনে এসেছে এই ‘পারিবারিক কোন্দল’–এর ছবি।
জানা গেছে, গত ১০ মাসে মোট ১৪ বার কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তে তাঁদের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন সুখবীর সিং এবং বিবেক যোশি। তারমধ্যে একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে একদিনেই নাকি চারবার আপত্তি জানিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, কোনওবারই তাঁদের আপত্তিতে কর্ণপাত করেননি জ্ঞানেশ কুমার। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের আরও মারাত্মক অভিযোগ হল, SIR–এর ক্ষেত্রে তাঁদের কিছু না জানিয়েই ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলা এবং বাদ দেওয়ার কাজ করা হয়েছে। এই বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশন ‘অবৈধ’ পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন সুখবীর সিং সান্ধু।
দুই কমিশনারের দাবি, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির বিষয়টি ইদানীং আর বিকেন্দ্রীভূত নয়। বরং গোটা বিষয়টিই নাকি নিয়ন্ত্রিত হয় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নার অঙ্গুলি হেলনে। দুই কমিশনার জানিয়েছেন, আগে ‘ERONET’ সফ্টওয়্যারে ভোটার তালিকা থাকত। কিন্তু এখন রাখা হয় ‘ECINET’–এ। ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং বাদ দেওয়ার কাজে ERO–দের ক্ষমতাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। এ ব্যাপারে গত মাসেই সান্ধু জানিয়েছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী আধিকারিকদের ‘ERONET’ পোর্টালে প্রবেশের ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে ক’দিন আগেই শীর্ষ আদালত কমিশনকে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে SIR–এর পর ট্রাইবুনালের কাছে ৩৮ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে । তার মধ্যে ২২.২১ লক্ষ আবেদন পুনরায় নাম তোলার জন্য। অন্যদিকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নির্দেশে ভোটার তালিকায় ঢোকা নাম বাদ দেওয়ার জন্য ১৬.১০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। এই আবেদন কারা করল, তা জানায়নি কমিশন। এরপরই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা সম্মতি দেওয়ার পরেও কারা নাম বাদ দেওয়ার আর্জি জানাল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সান্ধু।
উল্লেখ্য, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে, তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের গুরুত্ব অন্য দু’জনের তুলনায় কিছুটা বেশি। কিন্তু সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। যা সিদ্ধান্ত নিতে হবে সবই তিনজনের মতামতের ভিত্তিতে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, সমস্ত সিদ্ধান্তই নিয়ম মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধী নেতারা বিষয়টি নিয়ে আসরে নেমে পড়েছেন কপিল সিবাল, অখিলেশ যাদব এবং ডেরেক ও ব্রায়েন। তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারকে সমালোচনায় বিঁধেছেন। তাঁরা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা বলে আসছেন যে নির্বাচন কমিশন ‘অনৈতিক’ কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। গণতন্ত্রকে নির্মূল করার একটা ষড়যন্ত্র চলছে। এটা সাংবিধানিক অপরাধ।
