রবিবারও খোলা ব্যাঙ্ক, ধর্মঘটের আগে গ্রাহকদের জন্য বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: তিন দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের আগে গ্রাহকদের সুরাহা দিতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। আগামী রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ছুটির দিন হলেও গ্রাহকদের জন্য খোলা থাকবে ব্যাঙ্কের দরজা। বুধবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ওই দিন সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ও গ্রামীণ ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত
সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা তিন দিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস’ (ইউএফবিইউ)। এর জেরে ২৬ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পাশাপাশি বন্ধ থাকবে বেসরকারি ব্যাঙ্কও। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২৬ সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ শনিবার, যা এমনিতেই ছুটির দিন। ফলে শনিবার থেকে ধরলে বুধবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যার জেরে এটিএম পরিষেবাও ব্যাহত হতে পারত এবং গ্রাহকদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হত। ঠিক এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই রবিবার ব্যাঙ্ক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
একটি বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হোক, তা কাম্য নয়। তাই আগামী রবিবার সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ও গ্রামীণ ব্যাঙ্ক অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে গ্রাহকদের পরিষেবা দেবে।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের আবেদন, এখনও নেই সাড়া
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ব্যাঙ্ক কর্মী ও অফিসারদের সংগঠনগুলিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি।
কী কী দাবি ইউএফবিইউ-র
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে সপ্তাহে দু’দিন ছুটি-সহ চার দফা দাবি পেশ করেছে ইউএফবিইউ। সংগঠনটির অভিযোগ, এই দাবিগুলির ব্যাপারে কেন্দ্রের মনোভাব যথেষ্টই নেতিবাচক। দাবিদাওয়ার তালিকায় রয়েছে—
- পেনশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও সংস্কার, অর্থাৎ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মীদের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন বৃদ্ধি
- সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও পেনশনভোগীর জন্য অভিন্ন মহার্ঘ ভাতা
- ‘ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম’ (এনপিএস)-এর আওতাধীন কর্মচারীদের জন্য পুরনো পেনশন স্কিম (ওপিএস) বেছে নেওয়ার বিকল্প সুবিধা
আগেও হয়েছে ভোগান্তি
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ইউএফবিইউ-র ডাকে দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট হয়েছিল। তার পরের দু’দিন মাসের দ্বিতীয় শনি ও রবিবার হওয়ায় ব্যাঙ্ক বন্ধ ছিল, ফলে সেই সময় গ্রাহকরা যথেষ্ট ভোগান্তির মুখে পড়েছিলেন। এবার সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতেই আগাম পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র।
