নিখিলবঙ্গ যৌথ নাট্যমঞ্চের নাট্যবাসর
সুধা কুম্ভকার
শহর থেকে মফস্সল হয়ে গ্রাম— বাংলা নাটকের প্রসার এবং প্রচারে বেশ কিছু নাট্যদলের উদ্যোগে হয়ে গেল নিখিলবঙ্গ যৌথ নাট্যমঞ্চের স্বল্প দৈর্ঘ্যের নাট্যবাসর। তিনটি পর্বের এই উৎসবের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রামের নাট্য আখড়া মঞ্চে। বাঁকুড়ার বোলারা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব। তৃতীয় এবং শেষ পর্ব হল উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার শিল্পায়ন স্টুডিও থিয়েটারের দীপা ব্রহ্ম মঞ্চে। তৃতীয় নাট্যবাসরে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, সহ–সম্পাদক প্রশান্ত সেন, সুজিত কুমার দাস, ধনঞ্জয় আঢ্য, কিশোর দত্ত, গোবিন্দ কর, প্রবীণ অভিনেতা সনৎ পাল প্রমুখ।
বিশিষ্ট অভিনেত্রী প্রয়াত দীপা ব্রহ্মকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয় এদিনের নাট্যবাসর। প্রথমেই মঞ্চস্থ হয় বাগুইআটি সহজিয়া প্রযোজিত অনুনাটক ‘কুয়াশার জলছবি’। নাটকটির রচনা এবং নির্দেশনায় ছিলেন প্রশান্ত সেন। এরপর ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশন প্রযোজিত অনুনাটক ‘কৃষ্ণকলি’ সকলের প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়। প্রশংসিত হন নাটককার ও নির্দেশক ধনঞ্জয় আঢ্যও। এরপর ছিল প্রখ্যাত নাট্যকার মহিত চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘কালো ব্যাগ’–এর মঞ্চায়ন। কৌশিক চট্টোপাধ্যায় ও বাপি চক্রবর্তী নির্দেশিত এই নাটকের প্রযোজনায় ছিল নবদ্বীপ কর্তব্য। খড়দহ অনঘ প্রযোজিত এবং সুজিত দাস রচিত ও নির্দেশিত স্বল্প দৈর্ঘ্যের নাটক ‘হেলেন সিন্ড্রোম’ ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। এই নাটক ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ছিল নজরকাড়া। এদিনের শেষ প্রযোজনা ছিল চাঁদপাড়া কলরব প্রযোজিত ‘পটলকুমার’। নাটক রচনা এবং নির্দেশনায় ছিলেন গোবিন্দ কুণ্ডু।
প্রায় পাঁচঘণ্টা ধরে এই নাট্যবাসরকে কেন্দ্র করে প্রেক্ষাগৃহ ছিল পরিপূর্ণ। অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন শিল্পায়নের কর্ণধার, নাট্যব্যক্তিত্ব আশিস চট্টোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে নিখিলবঙ্গ যৌথ নাট্যমঞ্চের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব সম্পর্কেও বক্তব্য রাখেন তিনি। নাট্যমঞ্চের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন সংগঠনের সম্পাদক সঞ্জয় সাহা। যৌথ মঞ্চের সভাপতি মলয় ঘোষ এবং কোষাধ্যক্ষ অভিজিৎ নস্কর নাট্যবাসরের সফলতা কামনা করে পাঠিয়েছিলেন শুভেচ্ছা বার্তা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের কেওড়াতলা গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে নিখিলবঙ্গ যৌথ নাট্যমঞ্চের স্বল্প দৈর্ঘ্যের নাট্যবাসরের চতুর্থ পর্ব।
