বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

সতীর্থ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তীব্র শোকাহত মমতা

16 August, 2026 7:13 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

কলকাতা/রামপুরহাট: রাজনীতিতে বন্ধু এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধার প্রয়াণ যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক, রবিবার সকালে রামপুরহাটের ঘটনায় তা আরও একবার হাড়ে হাড়ে টের পেল রাজ্য রাজনীতি। ২০০১ সাল থেকে শুরু করে টানা পঁচিশ বছর যিনি দলের ছায়াসঙ্গী ছিলেন, সেই প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক ও রহস্যমৃত্যুতে গোটা তৃণমূল কংগ্রেসে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ব্যক্তিগত সতীর্থের এই সুদূরপ্রসারী ও আকস্মিক প্রস্থানে তিনি গভীর বেদনা ও তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন।

মমতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলার সঙ্গী

রাজনৈতিক মহলের মতে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি কখনও ক্ষমতার লোভ বা অতিরিক্ত উচ্চাশার রাজনীতি করেননি। দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে রামপুরহাটের মানুষের কল্যাণে নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও বিশ্বস্ততার সম্পর্ক ছিল সুদীর্ঘকালের। দলের দুর্দিন থেকে শুরু করে সুদিন— সব সময় নেত্রীর পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আজ সেই পুরনো এবং পরীক্ষিত সতীর্থের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্দরেও তৈরি হয়েছে এক গভীর শূন্যতা।

ঘনিষ্ঠ মহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, আশিসবাবুর মতো একজন মার্জিত, শিক্ষিত এবং সজ্জন রাজনীতিকের এই চলে যাওয়া দল ও সমাজ উভয়ের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি যে সততা বজায় রেখেছিলেন, তা বরাবর স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘনিষ্ঠ শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা কিছু বিতর্ক ও মানসিক চাপের বিষয়গুলো নিয়েও অত্যন্ত ব্যথিত দলীয় নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ওপর যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল এবং দলের অন্দরে বা বাইরের কিছু ঘটনার জেরে যে ‘রাজনীতির বিষ’ তাঁর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল, তার জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় নোংরা বা প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার বার্তা দিলেও, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে রাজনীতির এই নিষ্ঠুর রূপ এক প্রবীণ নেত্রীর মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee