দেবদত্তের জাদুকরী ১৬৭ রানের ইনিংসে শ্রীলঙ্কায় পাহাড়সমান রান ভারতের!
কলম্বো: শ্রীলঙ্কার মাটিতে লাল বলের ক্রিকেটে ফের একবার ভারতীয় ব্যাটারদের পসরা বসল। একদিকে যখন প্রকৃতি কূলহারা, বৃষ্টির চোখরাঙানিতে বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে খেলা, ঠিক তখনই উইকেটে পিলসুজের মতো অটল থেকে এক অবিশ্বাস্য ও রেকর্ডবুক কাঁপানো ইনিংস উপহার দিলেন দেবদত্ত পাড্ডিকল। তাঁর দুর্দান্ত ১৬৭ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংসে ভর করে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে রানের পাহাড়ে চড়ে বসল ভারত। স্কোরবোর্ডে রানের পাহাড় তৈরি হওয়া সত্ত্বেও টিম ম্যানেজমেন্টের এমনকী কোচ গৌতম গম্ভীরের কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা। আকাশ কালো করা মেঘ আর বৃষ্টির প্রবল ঝুঁকিসত্ত্বেও কেন সময়মতো ইনিংস ডিক্লেয়ার করা হলো না? এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে।
দেবদত্তের ব্যাটে রেকর্ডের বন্যা
এদিনের ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিলেন তরুণ ব্যাটার দেবদত্ত পাড্ডিকল। শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চওড়া ব্যাট চালাতে শুরু করেন তিনি। নিখুঁত টেকনিক, দারুণ ফুটওয়ার্ক এবং শটের বৈচিত্র্যে ভর করে তিনি একে একে কাটিয়ে দেন বিপক্ষ বোলারদের সব আক্রমণ। একে একে বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠিয়ে তিনি ব্যক্তিগত শতরান পার করেন এবং তা রূপান্তরিত করেন এক ম্যারাথন ১৬৭ রানের ইনিংসে। তাঁর এই দায়িত্বশীল ও আগ্রাসী ব্যাটিংই ভারতকে একটি বিশাল সংগ্রহের মজবুত ভিত গড়ে দেয়। তাঁর সঙ্গে ধ্রুব জুরেলের অসাধারণ ব্যাটিং পারফরম্যান্স ভারতীয় ইনিংসকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলে। দেবদত্তের এই মারকাটারি ইনিংস কেবল দলের স্কোরবোর্ডকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং বিদেশের মাটিতে ভারতীয় দলের গভীরতাও আরেকবার প্রমাণ করে দিয়েছে।
বৃষ্টির ঝুঁকিসত্ত্বেও কেন এই কৌশল?
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যেভাবে কলম্বোর আকাশে ঘন কালো মেঘের আনাগোনা চলছিল এবং বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল, তাতে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই ভারতের ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেওয়া উচিত ছিল। সাধারণত লাল বলের খেলায় এমন পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার স্ট্র্যাটেজিই নিয়ে থাকেন অধিনায়করা। কিন্তু ৪৯০ রানেরও বেশি বিশাল রান বোর্ডে তোলার পরেও ভারত কেন ইনিংস ঘোষণা করল না, তা নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে বিরাট ধোঁয়াশা।
অনেকের মতেই, কোচ গৌতম গম্ভীর এবং টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো চেয়েছিল শ্রীলঙ্কার বোলারদের পুরোপুরি ক্লান্ত করে দিতে এবং উইকেটে সেট হওয়ার সুযোগ পুরোপুরি কেড়ে নিতে। আবার অন্য একটি মহলের মতে, পিচের আচরণ এবং ব্যাটারদের আরও কিছুটা রান বাড়িয়ে নেওয়ার ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথাও মাথায় রাখা হয়েছিল। তবে বৃষ্টির ভ্রূকুটি মাথায় রেখেও এই ধরনের দীর্ঘ ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত কি আদতে দলের জন্য বুমেরাং হতে পারে? নাকি এর পেছনে রয়েছে ভারতের অন্য কোনো সুদূরপ্রসারী কৌশল?
ম্যাচের পরবর্তী মোড়
৪৯০ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোর গড়ার পর ভারতীয় শিবির এখন সম্পূর্ণভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে প্রস্তুত। দেবদত্ত পাড্ডিকলের এই স্মরণীয় ১৬৭ রানের ইনিংস ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে দীর্ঘদিন মনে রাখা হবে। তবে বৃষ্টির আশঙ্কাকে দূরে সরিয়ে যেভাবে এই ম্যারাথন ইনিংস খেলা হলো, তার আসল সুফল ভারত শেষ পর্যন্ত ঘরে তুলতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।
