বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

তারেক রহমানের ভারত সফর কি তবে অনিশ্চিত?

16 August, 2026 6:24 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নয়াদিল্লি : দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষিক সম্পর্কে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে কূটনৈতিক জট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা কর্তৃক ওয়ান্টেড অন্যান্য পলাতক আসামিদের ভারত প্রত্যর্পণ না করলে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত নয়াদিল্লি সফর এগিয়ে যাওয়া কঠিন। রবিবার বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই কঠোর কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তবে, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি প্রকাশ্য সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া বা রাজনৈতিক তৎপরতার ঘটনা গোটা আলোচনা প্রক্রিয়াটিকে গুরুতর ভাবে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করছে ঢাকা।

বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র একেএম শহিদুল করিম বলেছেন, “আমরা মনে করি এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “এই উদ্দেশ্যে, আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি যাতে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের আমাদের অনুরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি, আমাদের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর অভিযুক্ত খুনিদেরও যেন বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আমরা তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।”

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গত মার্চ মাসে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সীমান্ত শহর বনগাঁ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) গ্রেপ্তার করেছিল।

শেখ হাসিনা ও ভারতের দ্বিমুখী কূটনৈতিক অবস্থান:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য উপস্থিতি ও রাজনৈতিক বিবৃতি দেওয়ার বিষয়টিকে সহজভাবে নিচ্ছে না ঢাকা। বাংলাদেশের মতে, এই ধরনের ঘটনা তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের অনুকূল পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে, নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, হাসিনাকে ঘিরে আয়োজিত ওই সংবাদিক সম্মেলনের সঙ্গে ভারতীয় সরকারের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। তবে, ভারতের পক্ষ থেকে পূর্বে জানানো হয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধটি বর্তমানে তাদের তরফ থেকে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অধীনে “বিবেচনাধীন” (Under Examination) রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে আসার পর থেকেই হাসিনাকে ঘিরে নয়াদিল্লির এই কৌশলী অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভারতের প্রতি শেখ হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গি:

অন্যদিকে, ভারতের আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামগ্রিক মনস্তত্ত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানও এই ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে অবস্থান করলেও, তিনি দিল্লির সঙ্গে বিগত সরকারের সুসম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারা বজায় রাখা এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের পদক্ষেপে তীব্র অসক্রিয়তা বা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, হাসিনাও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সুরক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনীতিতে নিজের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে দিল্লির প্রচ্ছন্ন অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে চলেছেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি যে, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের ‘Bangladesh First’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি অনুসরণ করে যাব।”

সবমিলিয়ে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু এবং তাঁর নয়াদিল্লিতে উপস্থিতি যে বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee