বিপাকে হুমায়ুন কবীর, বাড়িতে হাজির পুলিশ
সংবাদদাতা, বহরমপুর: এবার হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে পুলিশ। AJUP প্রধানকে তলব করল বহরমপুর থানা। নেপথ্যে অডিও ক্লিপ কাণ্ড। শনিবার হুমায়ুন কবীরের শক্তিপুরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে হাজিরার নোটিশ ধরালো পুলিশ। ২১ সেপ্টেম্বর হুমায়ুন কবীরকে বহরমপুর থানার সাব–ইন্সপেক্টর রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের কাছে হাজিরা দিতে হবে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন সেই সময় বাড়িতে না থাকায় তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ পুলিশের কাছ থেকে নোটিশটি গ্রহণ করেন।
উপনির্বাচনের আগে কি রেজিনগরে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে? এই অডিও ক্লিপ সামনে আসতেই উঠেছে প্রশ্ন। হুমায়ুন কবীর স্বীকার করে নিয়েছেন যে, অডিওতে যে দুজনের গলা শোনা গেছে, তার মধ্যে একটি তাঁর। তাঁর দাবি, কোনওরকম অশান্তি পাকানোর পরিকল্পনা তিনি করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নওদার বিধায়ক। তবে এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, পুলিশ সাংবাদিক সম্মেলন করার আগে, হুমায়ুন নিজে কেন অভিযোগ জানালেন না?
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন বলেন, ‘জানিয়ে লাভ কী হবে? গত ৪ মাসে আমাকে যতজন আমার মা–বাবা, চোদ্দগুষ্টি তুলে গাল দিয়েছে। আমি প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে না বললেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশকে সেই রেকর্ডিং পাঠিয়েছি। এসপি–র কাছেও অভিযোগ জানিয়েছি।’ তিনি বিতর্কিত ফোন কল সম্পর্কে বলেন, ‘রাত ৯টা ২৬–এ ফোন এসেছিল। আমি তার কথা অস্বীকার করেছি। বলেছি এসব কথা বলবে না। এ ধরনের কোনও কাজ আমি করি না। বিজেপির পতাকা আমি কেন লাগাতে যাব?’
উল্লেখ্য, গত সোমবার বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার শচীন মক্কার একটি বিতর্কিত অডিও কল সাংবাদিকদের শোনান। সেই অডিও কলে দুই ব্যক্তির কথোপকথন শোনা গিয়েছিল। ফোনের এক প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম সারফরাজ নওয়াজ চৌধুরি। শচীন মক্কার জানিয়েছিলেন, ‘আমাদের হাতে সূত্র মারফত এই ফোন কল রেকর্ডিং এসেছে। কল রেকর্ডিং শুনে আমাদের মনে হয়েছে, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ঝামেলা লাগানোর জন্য একটি খারপ চক্র কাজ করছে।’ পুলিশ সুপার বলেছিলেন, ‘ফোনের অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তি কে, তা গলা শুনে নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পারছেন। কিন্তু আমি চেয়ারে বসে তাঁর নাম বলতে পারছি না।’ তিনি আরও জানিয়েছিলেন, দুই ব্যক্তির কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার জন্য আদালতে ভয়েস স্যাম্পলিংয়ের আবেদন করা হবে।
