এবার নেসলের বেবিফুডে ভেজালের অভিযোগ, FSSAI-এর নোটিস
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: সন্তানের জন্য নিশ্চিন্তে যে খাবার কিনছেন বাবা-মায়েরা, তার মানই এবার প্রশ্নের মুখে। দেশের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য সংস্থা নেসলের একাধিক বেবিফুড প্রোডাক্টে ভেজালের অভিযোগ উঠল। বিজ্ঞাপনে যে মানের দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে পণ্যের গুণমান তার সঙ্গে মিলছে না বলে অভিযোগ। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থাকে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সাধারণ খাদ্যপণ্যের তুলনায় শিশুখাদ্যের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন অনেক বেশি কঠোর।
প্রশ্ন উঠেছে মূলত তিনটি প্রোডাক্ট নিয়ে— Infant Nutrition, NAN Excella এবং Lactogen। নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, উৎপাদক সংস্থা যে পরিমাণ বায়োটিনের দাবি করেছে, বাস্তবে তার তুলনায় কম বায়োটিন মিলেছে এই খাবারগুলিতে। দ্বিতীয়বার পরীক্ষাতেও একই ফল পাওয়া যাওয়ায় সংশয় আরও জোরালো হয়। এছাড়া Lactogen Pro 1-এর প্যাকেটে ব্যবহৃত প্রোটিনকে সহজপাচ্য বলে দাবি করা হলেও, এফএসএসএআইয়ের পরীক্ষায় সেই দাবিও ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, নেসলের বিজ্ঞাপনী দাবির সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত গুণমানের ফারাক রয়েছে, অথচ ভোক্তারা সেই দাবির ওপর ভরসা করেই শিশুদের জন্য এই পণ্য কিনছেন। এই কারণেই সংস্থাকে নোটিস ধরানো হয়েছে। তবে আপাতত পণ্যগুলির বিক্রিতে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। নোটিসের জবাবে নেসলে জানিয়েছে, তারা খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনে চলে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় রাখবে।
প্রসঙ্গত, দেশের খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করতে সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এফএসএসএআই। গত মাসেই ডাবরের মধু, অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার, ভার্জিন কোকোনাট অয়েল, তিল তেল, ঘি, নারকেল জল ও নারকেল দুধের বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালের বিজ্ঞাপন ও দাবি-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, কম্পাউন্ড ফুডের ক্ষেত্রে কোনও পণ্যকেই ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ বলে দাবি করা যায় না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পণ্যকে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ বলে প্রচার চালানোর অভিযোগেই শাস্তির মুখে পড়ে ডাবর। একই ধারাবাহিকতায় এবার নজরে এল বহুজাতিক সংস্থা নেসলেও।
